একই সম্পত্তি একাধিকবার বিক্রি, ‘নিশ্চিত’ ভাড়া রিটার্নের প্রতিশ্রুতি। ঠিক এইভাবেই দিনের পর দিন বিনিয়োগকারীদের নিজের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছিলেন রিয়েল এস্টেট প্রকল্প ’32nd অ্যাভিনিউ’- এর প্রতিষ্ঠাতা ধ্রুব দত্ত শর্মা (Dhruv Sharma 32nd Avenue)। বৃহৎ পরিসরে প্রতারণা, তহবিল আত্মসাৎ ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় গুরুগ্রাম পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে তাঁকে। প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রকল্পটির সিইও ও পরিচালক।
পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তকারী প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন জালিয়াতির অঙ্ক ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। শুক্রবার ধ্রুবকে আদালতে পেশ করা হলে, তাঁকে ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, ধ্রুব ৩০ বছরের মেয়াদ অবধি গ্যারান্টিযুক্ত লিজ, বাই-ব্যাক অপশন, প্রাত্যহিক মাসিক আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিনিয়োগকারীদের। জমি দেওয়া ও ভাগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গুরুগ্রামে একাধিক প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ নেওয়া হয়। অভিযোগ, ২০২৫ সালের অগস্ট থেকে ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন তিনি। পাশাপাশি, TDS, GST, PF ও ESI-সহ বকেয়াও পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি বিনিয়োগকারীদের।
প্রায় দুই মাস আগে প্রতারিত বিনিয়োগকারীরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। ইতিমধ্যে পাঁচটির বেশি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এমনকি ৪০-৫০ জন অভিযোগকারীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, প্রকৃত প্রতারিতের সংখ্যা ৫০০ থেকে ১০০০ জনের মধ্যে হতে পারে। অনুমান করা হচ্ছে, প্রতিটি বিনিয়োগকারীর ১ কোটি থেকে ২.৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, একাধিক ইউনিট একাধিক ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত দখল হস্তান্তর আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিনিয়োগকারীরা দখল বা বাইব্যাকের দাবি জানালে প্রোমোটাররা তা পূরণে ব্যর্থ হন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধ্রুব দত্ত শর্মা নিজেই প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ দাবি করেছে, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ বিলাসবহুল সম্পত্তিতে ব্যয় করা হয়েছে। যার মধ্যে গোয়ার বিচ সাইটে ভিলা এবং রাজস্থানের নিমরানায় সম্পত্তি কেনা হয়েছে।
ধ্রুব দত্ত শর্মা বর্তমানে পুলিশি হেপাজতে রয়েছেন। ইওডব্লিউ জানিয়েছে যে অর্থের অপব্যবহার, সম্ভাব্য অতিরিক্ত সুবিধাভোগী এবং একই সম্পত্তি একাধিকবার বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
