বর্ষা নিয়ে আরও দুঃসংবাদ শোনাল মৌসম ভবন (IMD)। মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী বছরের বর্ষা স্বাভাবিকের তুলনায় ৬০ শতাংশ কম হতে পারে। এই সম্ভাবনা প্রায় চার গুণ বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো (El Niño India Monsoon) পরিস্থিতির কারণে এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ভারতে আছড়ে পড়তে চলেছে এল নিনো। তাও আবার বর্ষার সময়েই। এর ফলে দেশে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম বৃষ্টি হবে। মৌসম ভবনের ডিজিএম ডঃ মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, বিগত তিন বছরের মধ্যে এই বছরই সবথেকে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এবারে বর্ষাকালে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হবে। যদি এই পূর্বাভাস বাস্তবে পরিণত হয়, তবে ২০২৬ সাল ২০১৫ সালের পর ভারতের সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষার বছর হতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে কৃষিক্ষেত্রে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝি ও অগস্ট থেকে এর শক্তি বাড়বে ধীরে ধীরে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনো পূর্ণ শক্তি ধারণ করবে। ভারত তথা বিশ্ব জুড়েই প্রবল দাবদাহ হবে এল নিনোর প্রভাবে। অনেক রাজ্যেই খরার সৃষ্টি হবে। জলের জোগানেও প্রবল ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলেই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
দেশের বিশাল অংশ এখনও বৃষ্টিনির্ভর কৃষির উপর নির্ভরশীল। ধান, ডাল, তৈলবীজ এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এর ফলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।
শুধু কৃষিই নয়, জলাধার, নদী এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তরেও প্রভাব পড়তে পারে। অনেক রাজ্যে পানীয় জলের সংকট দেখা দিতে পারে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ বাড়তে পারে, বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে। শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এটি এখনও একটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস। আগামী কয়েক মাসে সমুদ্রের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে চিত্র কিছুটা বদলাতেও পারে।

