Site icon Hindustan News Point

Fuel Crisis Alert: মিলবে না ইচ্ছামতো পেট্রোল-ডিজেল, বড় সিদ্ধান্ত নিল এই রাজ্য

Fuel Crisis Alert

মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার জেরে এবার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি ব্যবস্থায়। (Fuel Crisis Alert) দেশের মধ্যে প্রথমবার, কেরালায় পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রিতে কার্যত ‘রেশনিং’ চালু করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এক ব্যক্তি সর্বাধিক ২০০ লিটার ডিজেল কিনতে পারবেন এবং পেট্রোল কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে পরিবহণ ব্যবসায়ী, ছোট শিল্প, ট্রাক অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে। যদিও সরকারিভাবে ‘জ্বালানির অভাব’ মানতে নারাজ কেন্দ্র ও তেল সংস্থাগুলি, তবু পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেরলের বহু পেট্রোল পাম্পে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, বর্তমানে তেল সংস্থাগুলি অতীতের থেকে কম পরিমাণ জ্বালানি পাম্পে পাঠাচ্ছে। ফলে অধিকাংশ পাম্পে মাত্র কয়েক দিনের স্টক থাকছে। (Fuel Crisis Alert) এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেক বড় চাপ — পাম্প মালিকদের এখন আগাম টাকা জমা দিয়ে তেল অর্ডার করতে হচ্ছে। আগে যে ‘ক্রেডিট সাপ্লাই’ ব্যবস্থায় অনেক পাম্প ব্যবসা চালাত, সেটিও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

কেরালা স্টেট পেট্রোলিয়াম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, “এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য আতঙ্ক ছড়ানো নয়, বরং যাতে হঠাৎ করে কোনও পাম্পে সম্পূর্ণ তেল ফুরিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা।”

বর্তমানে কেরালা রাজ্যে প্রায় ২,৫০০ পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এদের অনেকেই ১২ হাজার থেকে ২৪ হাজার লিটারের ট্যাঙ্কার সরবরাহের উপর নির্ভরশীল। শহুরে বড় পাম্পে প্রতিদিন ১০ হাজার লিটার পর্যন্ত ডিজেল বিক্রি হয়। কিন্তু সরবরাহে সামান্য দেরি হলেই দ্রুত স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বাড়তে পারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম, ঘোষণা RBI গর্ভনরের: Fuel Crisis Alert: মিলবে না ইচ্ছামতো পেট্রোল-ডিজেল, বড় সিদ্ধান্ত নিল এই রাজ্য

সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?

এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়তে পারে পরিবহণ ও দৈনন্দিন পরিষেবায়। (Fuel Crisis Alert) ট্রাক, বাস, ট্যুরিস্ট গাড়ি, মাছ ও সবজি পরিবহণ, নির্মাণ শিল্প— সব ক্ষেত্রেই ডিজেলের উপর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। যদি দীর্ঘদিন এই সীমাবদ্ধতা বজায় থাকে, তাহলে পণ্য পরিবহণে খরচ বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়বে বাজারদরেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কে মানুষ যদি অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত করতে শুরু করেন তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ তাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে এবং ছোট পাম্পগুলি দ্রুত খালি হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন ছোট পাম্প মালিকরা। আগাম টাকা দিয়ে বড় পরিমাণ জ্বালানি কেনার সামর্থ্য অনেকের নেই। ফলে গ্রামীণ এলাকায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

কতটা গুরুতর (Fuel Crisis Alert) পরিস্থিতি?

কেন্দ্রীয় সূত্র অনুযায়ী, ভারতের হাতে এখনও প্রায় ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) মজুত রয়েছে। এছাড়া ৬০ দিনের প্রাকৃতিক গ্যাস ও প্রায় ৪৫ দিনের LPG স্টকও রয়েছে। অর্থাৎ অবিলম্বে দেশ জুড়ে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং তেল সংস্থাগুলির বিপুল লোকসান। রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই লোকসানের পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

(Fuel Crisis Alert) এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর কাছে জ্বালানি সাশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছেন। অপ্রয়োজনীয় গাড়ি ব্যবহার কমানো, ওয়ার্ক ফ্রম হোম বাড়ানো এবং বিদেশ সফর এড়ানোর মতো পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরালায় শুরু হওয়া এই সীমাবদ্ধতা আপাতত সতর্কতামূলক হলেও, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ দেখা যেতে পারে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন আতঙ্ক নয় বরং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা।

সপ্তাহে ২ দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, বড় ঘোষণা এই রাজ্যের: Fuel Crisis Alert: মিলবে না ইচ্ছামতো পেট্রোল-ডিজেল, বড় সিদ্ধান্ত নিল এই রাজ্য


Exit mobile version