মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি ও ছত্তীসগড়ের নারায়ণপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিগত চার দিন ধরে চলছিল মাওবাদী বিরোধী অভিযান। সেই অভিযানেই শুক্রবার রাতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত সাত জন মাওবাদী। অভিযান শেষে উদ্ধার করা হয় মৃতদেহগুলি।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন সিপিআই (মাওবাদী)-র গড়চিরোলি ডিভিশন কমিটি, ওয়েস্ট সাব-জোনাল ব্যুরো এবং কোম্পানি নম্বর ১০-এর ইনচার্জ লোকেটি চন্দ্র রাও (৫৩)। তিনি ‘প্রভাকর’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁকে ধরার জন্যে ২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। চন্দ্র রাও ছিলেন তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি জেলার সদাশিব নগরের ইসরোজিবাদী গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। নিজের নাম ব্যতীত তিনি পরিচিত ছিলেন পদকালা স্বামী, রবি ও প্রভাকর নামে।
নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, নিহতদের মধ্যে চার জন পুরুষ ও তিন জন মহিলা ক্যাডার। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি এসএলআর ও একটি .৩০৩ রাইফেল। বাকি নিহত মাওবাদীদের পরিচয় জানার কাজ চলছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্রের ভামরাগড় পুলিশ সাব-ডিভিশনের অধীনে আবুঝমাড় এলাকায় সিপিআই (মাওবাদী)-র কোম্পানি নম্বর ১০-এর ক্যাডারদের উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়। তারপরই মঙ্গলবার অভিযান শুরু হয়। অভিযান চলাকালীন আহত হন সি-৬০ কমান্ডো দীপক ছিন্না মাদাভি (৩৮)। শুক্রবার সকালে তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ভামরাগড় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার তাঁর নিজ গ্রাম মন্দ্রায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
আরেকজন কমান্ডো, যোগা মাদাভিও ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকেও হেলিকপ্টারে করে ভামরাগড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার জন্য পরে ভর্তি করা হয় গড়চিরোলির একটি হাসপাতালে। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল, তিনি বিপদ মুক্ত। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এলাকায় তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
