কাশ্মীরের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র গুলমার্গে সোমবার এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সাক্ষী থাকলো। আচমকাই মাঝ আকাশে থমকে যায় গন্ডোলার রোপওয়ে। প্রায় ৩০০ জন পর্যটক বিভিন্ন কেবিনের ভিতরে আটকে থেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে মহিলা, শিশু ও প্রবীণ পর্যটকরাও ছিলেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ঝুলন্ত কেবিনে আটকে থাকার কারণে আতঙ্ক আরও বাড়তে থাকে। বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম এই রোপওয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগাতে হয়। (Gulmarg Gondola)
জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গুলমার্গ গন্ডোলার মোট ৬৫ টি কেবিনের মধ্যে ৬২ টি কেবিন প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে থেমে যায়। এর মধ্যে ৫২ টি কেবিনে পর্যটক ছিলেন। কয়েকটি কেবিন মাটি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট উচ্চতায় আটকে ছিল বলে জানা গিয়েছে। দুপুর নাগাদ সমস্যাটি ধরা পড়তেই সঙ্গে সঙ্গে পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জরুরি উদ্ধারের কাজ শুরু করা হয়। (Gulmarg Gondola)
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ভারতীয় সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টি, ঠান্ডা হাওয়া এবং কুয়াশার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। প্রতিকূলতার মধ্যেই বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাউন্টেন রেসকিউ টিম দড়ি ও সুরক্ষা সরঞ্জামের সাহায্যে একে একে পর্যটকদের কেবিন থেকে নামানোর কাজ শুরু করে। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে টানা উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
গুলমার্গ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (জিডিএ) প্রধান নির্বাহী আধিকারিক তারিক হুসেইন নাইক জানান, সোমবার দুপুর প্রায় ১ টার সময় গন্ডোলা সার্ভিসে এই ত্রুটি দেখা দেয়। গুলমার্গ থেকে কোঙ্গদুরি (প্রায় ২,৬০০ মিটার উচ্চতায়) এবং কোঙ্গদুরি থেকে আফারওয়াত শৃঙ্গ (প্রায় ৩,৯৭৯ মিটার উচ্চতায়) — দুটি পর্যায়েরই পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। (Gulmarg Gondola)
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আটকে পড়া পর্যটকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করা হয় যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়। অনেক পর্যটককে প্রথমে নিরাপত্তা বেল্ট পরিয়ে দড়ির মাধ্যমে নিচে নামানো হয়। শিশু ও প্রবীণদের উদ্ধার করতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর শেষ পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয় বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়।
জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা গোটা পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজর রাখেন। তিনি প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলিকে প্রয়োজনীয় সমস্ত সাহায্যের নির্দেশ দেন। তাঁর কথায়, “সব পর্যটক নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীদের বিশেষ তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।” (Gulmarg Gondola)
ঘটনার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং উদ্ধারকারী দলগুলির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় সেনা, পুলিশ, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এত বড় বিপদ সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “এই অভিযান প্রমাণ করে আমাদের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম।” (Gulmarg Gondola)
কী কারণে এই ত্রুটি, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি দল পরীক্ষা করছে। সমস্ত রকম নিরাপত্তা পর্যালোচনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত গন্ডোলা রোপওয়ো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর না মিললেও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কাশ্মীরের পর্যটন শিল্পের উপরও এই ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যটন মহলের একাংশ।
হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ল লাদাখে , অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ৩ সেনা অফিসার

