Site icon Hindustan News Point

Himachal Pradesh Snowfall: প্রবল তুষারপাত হিমাচলের পার্বত্য এলাকা, মহা বিপাকে পর্যটকেরা, সঙ্গে নেই খাবার ও পানীয় জল

himachal pradesh snowfall

টানা তুষারপাতে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশের পার্বত্য এলাকা। ছাম্বা, কিন্নর, কুলু-মানালি -সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলি। মহা বিপদে পড়েছেন সে রাজ্যে যাওয়া পর্যটকেরা। জানা গিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টা ধরে ভারী তুষারপাতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। তার জেরে ভরা পর্যটন মরসুমে ওই রাজ্যে যাওয়া বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন।

হিমাচলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দলে দলে পর্যটকরা যান সেখানে। সে রাজ্যের তুষারপাতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু এমন তুষারপাতের জন্য যে প্রবল বিপত্তির মুখে পড়তে হবে -তা পর্যটকেরা ভাবতে পারেননি।

রাস্তাঘাট ঢেকে রয়েছে মোটা বরফের চাদরে। ক্রমাগত তুষারপাতে কোথাও কোথাও এক থেকে দুই ফুট পুরু বরফ জমেছে। যান চলাচলের জন্য রাস্তাগুলি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যান চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় ব্যাপক যানজটের মুখে পর্যটকেরা। যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।

জাতীয় সড়ক স্তব্ধ হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ আটকে পর্যটকরা। কীভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসবেন, তারও হদিশ পাচ্ছেন না। এদিকে খাবার ও পানীয় জলের বাড়ন্ত হওয়ার কারণে বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বহু পর্যটক ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে পরেন। কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গাড়িতে মালপত্র রেখেই হাঁটা শুরু করেন। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রায় ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয় তাদের। বাদ যাননি শিশু এবং বয়ষ্করাও। বহু পর্যটক খাবার ও পানীয় জল ছাড়াই গাড়ির ভিতরে রাত কাটান। আশপাশে কোনও সুলভ শৌচাগার নজরে না আসায় বিপদ আরও বাড়িয়ে দেয়। বেড়াতে বেরিয়ে এমন দুর্যোগের মধ্যে পড়তে হবে জানলে তারা আসতেনই না বলে জানিয়েছেন অনেকে। কীভাবে উদ্ধার হবেন, সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে অনেকে কান্নাকাটিও করতে থাকেন।

চণ্ডীগড়ের এক গাড়ি চালক জানিয়েছেন, তিনি এবং তার যাত্রীরা খাবার ও পানীয় জল ছাড়াই অসহায় অবস্থায় ২৪ ঘণ্টা ধরে গাড়ির ভিতরে আটকে আছেন। পাশাপাশি অভিযোগ, প্রশাসনের তরফ থেকেও কোনও সহায়তা মেলেনি। তুষারপাত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা পরিষ্কার করা উচিত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এক পর্যটক জানিয়েছেন, যানজটের কারণে তিনি এবং তার পরিবার গাড়িতেই রাত কাটিয়েছেন। গতকাল থেকে মাত্র ২০০ মিটার পথ অতিক্রম করেছেন। হিমাচল প্রশাসনের কিছু করা উচিত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে হিমাচল প্রদেশের পূর্তমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি। প্রায় ৬০০ ছোট-বড় রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সব রাস্তা থেকে বরফ সরানোর জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।


Exit mobile version