Site icon Hindustan News Point

‘এল নিনো’-র প্রভাব? ১২৫ বছরে পঞ্চমবার শুষ্ক রইল জুন !

Imd Forecasts

প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ (El Niño)-র প্রভাব? মৌসুমি বায়ুর গতি দুর্বল হওয়ার কারণে জুন মাসের মতোই জুলাইতেও বৃষ্টির ঘাটতি বজায় থাকবে গোটা দেশে৷ এমনটাই জানালো মৌসম ভবন (IMD)৷ ১৯০১ সালের পরে পঞ্চম বারের মতো শুষ্কতম জুন মাস কাটল ভারত। দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদী গড়ের (LPA) ৯৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অংশে অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে খারিফ শস্য। যা ঘিরে কৃষিক্ষেত্রে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে (Imd Forecasts)।

আইএমডি-র ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানান, উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব, পূর্ব-মধ্য ভারত এবং পূর্ব উপদ্বীপের কিছু অঞ্চল ছাড়া দেশের অধিকাংশ এলাকাতেই স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্ষার ঘাটতির কারণে ধান, ভুট্টা, তুলো ও সয়াবিনের মতো গ্রীষ্মকালীন ফসল রোপণের গতিও কমে গিয়েছে। বেশকিছু জায়গায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, বর্ষাকাল বলতে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় জুলাই মাসেই। বৃষ্টিপাতের গড় হিসেব করলে এই মাসে প্রায় ২৮০.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। যা বৃষ্টিপাত ঘটানোর ক্ষেত্রে মৌসুমী বায়ুর ৩২ শতাংশ। ফলে স্বাভাবিক ভাবে ১৬৫.৩ মিলিমিটারের পরিবর্তে মাত্র ৯৯.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম (Imd Forecasts)।

আইএমডি-র তরফে জানানো হয়েছে, জুনে বৃষ্টির ঘাটতির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি কারণ, জুন মাসে দুই থেকে তিনটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছিল কিন্তু একটিও তৈরি হয়নি। আর একটি হল প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাব। যার কারণে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়েছে।

কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, বৃষ্টির ঘাটতির কারণে ২৫ জুন পর্যন্ত দেশে খরিফ চাষের আওতা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। গত বছর এই সময়ে যেখানে ২ কোটি ৩৬ লক্ষ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছিল, এবার তা নেমে এসেছে প্রায় ১ কোটি ৮৩ লক্ষ হেক্টরে।

ভারতে বদলাচ্ছে বৃষ্টিপাতের ধারা। এর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের একটা প্রভাব তো আছেই। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মৌসুমি অক্ষরেখার খামখেয়ালি আচরণ জলবায়ু পরিবর্তনের এক স্পষ্ট লক্ষণ। উষ্ণায়নের ফলে বায়ুমণ্ডল আগের চেয়ে বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখছে, যার ফলে বৃষ্টি হলে তার তীব্রতা অনেক বেশি হচ্ছে। আবার বেশকিছু জায়গায় বৃষ্টি নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

‘আসল’, ‘নকল’ তৃণমূলের দুই শিবিরকেই ২১ জুলাইয়ে ‘না’ পুলিশের


Exit mobile version