ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) থেকে শুরু করে NEET-CBSE পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক— একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হল বিরোধী INDI জোট। সোমবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত INDI জোটের বৈঠকে অংশ নেয় দেশের ২৫টি বিরোধী রাজনৈতিক দল। প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। (INDI Alliance)
বৈঠকের পর খাড়গের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলগুলির আশঙ্কা, এর ফলে বহু প্রকৃত ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এই কারণেই দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাড়গের কথায়, “ভোট লুট, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আমরা চাই দেশের সর্বোচ্চ বিচারব্যবস্থা এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক।” তিনি জানান, খুব দ্রুতই সেই চিঠি প্রধান বিচারপতির হাতে তুলে দেওয়া হবে।(INDI Alliance)
এদিনের বৈঠকে সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে আসে NEET ও CBSE পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কের বিষয়টি। বিরোধী জোটের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে একাধিক জাতীয় স্তরের পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস এবং মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিতর্ক সামনে এসেছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “NEET এবং CBSE পরীক্ষায় অংশ নেওয়া লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় এড়াতে পারেন না কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাই তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।” বিরোধী জোটের সব শরিক দলই এই দাবির পক্ষে মত দিয়েছে বলে জানান তিনি। (INDI Alliance)
খাড়গের পাশে এদিন উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। এছাড়াও বামফ্রন্টের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের নেতারাও বৈঠকে অংশ নেন। শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে)-র প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা তথা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন। (INDI Alliance)
বিরোধী জোটের বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খাড়গের দাবি, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, কৃষকদের সমস্যা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অত্যাচারিত অংশের দুরবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত নীরব। তাঁর কথায়, “দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে চলেছে, কর্মসংস্থান কমছে, কৃষকরা সমস্যায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা উচিত।” এই দাবিও বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। (INDI Alliance)
এছাড়া সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাড়গে জানান, সংসদ চলাকালীন বিরোধী জোটের নেতারা নিয়মিত বৈঠক করবেন এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতার দপ্তরে সমন্বয় বৈঠক চলবে। পাশাপাশি প্রতি দু’মাস অন্তর ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামী অগস্ট মাসে হায়দরাবাদে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যদিও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ পরে জানানো হবে। (INDI Alliance)
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকের ফলাফল ঘিরে বিরোধী জোটের অন্দরে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন ইস্যুতে শরিক দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্যের খবরও সামনে আসে। সেই আবহে দিল্লির এই বৈঠককে বিরোধী ঐক্যের শক্তি প্রদর্শন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বৈঠক শেষে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, মতের অমিল থাকলেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে রক্ষার প্রশ্নে তারা ঐক্যবদ্ধভাবেই এগোবে। (INDI Alliance)
কমিটি পুনর্গঠনে বড় রদবদল, তৃণমূলে নতুন কমিটিতে থাকছেন কারা?

