ভারত-মায়ানমার সীমান্ত ঘিরে আবারও নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সাতজন বিদেশির গ্রেফতারের ঘটনায় সামনে আসতেই সীমান্তের একাধিক দুর্বলতা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে তদন্তকারী মহলে।
কয়েকদিন আগেই জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) কলকাতা, দিল্লি ও লখনউ থেকে এক মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ ভ্যানডাইক এবং ইউক্রেনের ছয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, তারা প্রথমে পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করলেও পরে উত্তর-পূর্বের মিজোরাম হয়ে কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই মায়ানমারে ঢুকে পড়ে। India-Myanmar Unfenced Border
অভিযোগ, মায়ানমারে গিয়ে তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীদের গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল এবং ড্রোন ব্যবহারের কৌশল শেখাচ্ছিল। এমনকি বিদেশ থেকে ড্রোন এনে সেই গোষ্ঠীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ধৃত ম্যাথিউ ভ্যানডাইকের অতীত ঘাঁটলে লিবিয়া, সিরিয়া ও ইউক্রেনের মতো সংঘর্ষপূর্ণ এলাকায় তার উপস্থিতির ইতিহাসও মিলেছে।
চোটের কারণে IPL থেকেই ছিটকে জ্যাক এডওয়ার্ডস, বড় ধাক্কা হায়দরাবাদের
তদন্তকারীরা আরও আশঙ্কা করছেন, এই বিদেশি চক্রের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু উগ্রপন্থী সংগঠনের যোগাযোগ থাকতে পারে। ফলে বিষয়টি শুধু অবৈধ অনুপ্রবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে প্রায় ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার বড় অংশই দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং এখনও সম্পূর্ণ বেড়াবিহীন। এই অরক্ষিত সীমান্তের সুযোগ নিয়েই বছরের পর বছর ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র পাচার এবং জঙ্গি কার্যকলাপের মতো সমস্যা দেখা যায়। India-Myanmar Unfenced Border
ঘটনার পর ফের জোরালো হয়েছে সীমান্তে কড়া নজরদারি বাড়ানো, দ্রুত বেড়া নির্মাণ এবং বিদেশিদের চলাচলের নিয়ম আরও কঠোর করার দাবি। সব মিলিয়ে, এই গ্রেফতারির ঘটনা স্পষ্ট করে দিল সীমান্তে সামান্য ফাঁকফোকরও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

