পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন-ইজরায়েল এর সঙ্গে ইরানের অশান্তি চলছে। আঁচ পড়েছে হরমুজ প্রণালীতে। সেখান দিয়ে দুনিয়ার প্রচুর জ্বালানি তেলের জাহাজের যাতায়াত। ভারতের প্রচুর পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ দিয়েই আসে। তাই সেই সব জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঝসমুদ্রে কড়া পাহারা বসিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। সোজা কথায়, উত্তাল সমুদ্র পথে ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করতেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌসেনার (Indian Navy) রণতরীগুলো।
গত কয়েক মাসে লোহিত সাগর থেকে আরব সাগর—বারেবারে দেখা গিয়েছে যে মালবাহী জাহাজগুলোর ওপর ড্রোন বা মিসাইল দিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে। কখনও জলদস্যুদের ভয়, আবার কখনও যুদ্ধের জেরে জাহাজ আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। ভারত যেহেতু বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি তেল এবং অন্যান্য দরকারি জিনিস এই পথ দিয়েই আমদানি করে, তাই এই পথটা নিরাপদ রাখা ভারতের কাছে বড় দায়িত্ব । সেই কারণেই নৌসেনার (Indian Navy) আধুনিক রণতরী আর নজরদারি বিমানগুলোকে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।
নৌসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাঝসমুদ্রে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে। ভারত মহাসাগর থেকে ওমান উপসাগর পর্যন্ত যে এলাকাগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে যুদ্ধজাহাজগুলো টহল দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, আকাশে উড়ছে বিশেষ নজরদারি বিমান, যা অনেক দূর থেকেই সব জাহাজের গতিবিধি বা কোনও ড্রোনের হানা টের পেয়ে যাবে। যদি কোনও জাহাজ বিপদে পড়ে, তবে তাকে উদ্ধার করার জন্য নৌসেনার (Indian Navy) বিশেষ কমান্ডো বাহিনীকেও তৈরি রাখা হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত এখন আর শুধু নিজের জলসীমা রক্ষা করেই শান্ত থাকছে না। আন্তর্জাতিক জলপথে যাতে ভারতীয় জাহাজগুলো নির্ভয়ে যাতায়াত করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করাও বড় কাজ। পশ্চিম এশিয়ার এই উত্তেজনা যতদিন না কমছে, ততদিন ভারতীয় নৌসেনার এই কড়া নজরদারি বজায় থাকবে। এক কথায় বলতে গেলে, মাঝসমুদ্রে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোর গায়ে যাতে একটা আঁচড়ও না লাগে, তার জন্য পুরোপুরি কোমর বেঁধে নেমেছে নৌবাহিনী (Indian Navy)।












1 thought on “হরমুজ প্রণালীতে কড়া নজরদারি Indian Navy-র, মাঝসমুদ্রে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তায় সুরক্ষা ব্যবস্থা”