পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতে বাড়তে পারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম (Iran War Oil crisis)। এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। তাঁর বক্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে চললে পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে। সরকারের পক্ষে জ্বালানি খরচ আর বহন করা সম্ভব হয়ে উঠবে না।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানির কোপে কুপোকাত হয়েছে বেশকিছু দেশ। তেল ও জ্বালানির ক্ষেত্রে ভারতও অনেকটাই নির্ভরশীল পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর। ফলে ভারতের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে যথেষ্ট। বেড়েছে জ্বালানির দামও।
সুইৎজারল্যান্ডে একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, “এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে, তাহলে একসময় সরকারের পক্ষেও মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপ বহন করা সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে পেট্রল ও ডিজেলের দামের কিছুটা বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের উপরও পড়তে পারে।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘ তিনমাসেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার জেরে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই পরিস্থিতির জেরে চাপের মুখে থুবড়ে পড়েছে টাকার দাম। মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রা ৯৫ টাকার নীচে নেমেছে, যাতে বেড়েছে আমদানি ব্যয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের উপর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশে, বাড়তি পেট্রল-ডিজেল ব্যবহার কমানো, কারপুলিং, মেট্রো ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানো ও অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ওয়ার্ক ফর্ম হোমের কথাও বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

