কেরলের ত্রিশূরে ভয়াবহ আতশবাজি কারখানা বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫। আহত অন্তত ৪০ এরও বেশি। রবিবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় কারখানাটি এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও কম্পন অনুভূত হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন আতঙ্কে। (Kerala Firecracker Factory Explosion )
কয়েক মাস আগেই তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলায় একই ধরনের আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন একাধিক শ্রমিক, আহত হন আরও অনেকে। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলেই বারবার এমন দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। ২০২৪ সালেও একই জেলায় পৃথক দুটি বিস্ফোরণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
এই ত্রিশূরের বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক ও আতশবাজির কাঁচামাল মজুত ছিল। আচমকাই আগুন লাগে, আর তার জেরেই পরপর একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো কারখানা জুড়ে। বিস্ফোরণের তাপে আশপাশের বেশ কয়েকটি ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। প্রায় কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে। (Kerala Firecracker Factory Explosion )
দুর্ঘটনার সময় কারখানার ভিতরে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। বিস্ফোরণের জেরে অনেকেই আটকে পড়েন ধ্বংসস্তূপের নীচে। স্থানীয় মানুষজন ও উদ্ধারকারী দল মিলে শুরু করেন তল্লাশি অভিযান। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। (Kerala Firecracker Factory Explosion )
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই কারখানায় নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে কাজ চলছিল। দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণে ছিল না পর্যাপ্ত সতর্কতা, এমনকি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল অপর্যাপ্ত। ফলে সামান্য ত্রুটি থেকেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কারখানার মালিক ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই বিস্ফোরণের একটি ভয়াবহ ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, অন্ধকারে হঠাৎই আগুনের বিশাল গোলা আকাশে ছিটকে উঠছে এবং মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে গোটা এলাকা।
প্রশাসনের তরফে থেকে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্বও নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার অভিঘাত এখনও কাটেনি ত্রিশূরের মানুষের মনে আতঙ্ক আর শোকের ছায়া ঘিরে রয়েছে গোটা এলাকা। (Kerala Firecracker Factory Explosion )

