প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তাঁকে গভীর খাদে ফেলে প্রেমিকার হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। পুনের বহুল আলোচিত সেই কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলাতেই এবার সামনে এল নতুন তথ্য। সম্প্রতি অভিযুক্ত সিয়া গোয়ালের ভাই সাহিল গোয়ালকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। সেই জেরায় তিনি দাবি করেছেন, সিয়া যদি কেতনকে বিয়ে করতে না চাইত, তাহলে পরিবারের সদস্যরা কখনও জোর করে সেই বিয়ে দিতেন না। বরং বিয়েটিই বাতিল করে দেওয়া হতো। (Ketan Agarwal Murder Case)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে সাহিল গোয়ালকে জেরা করা হয়। তদন্তকারীরা জানতে চান, সিয়া এবং সহ-অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর সম্পর্কের কথা কি তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন? সাহিল জানান, এ বিষয়ে তিনি বা তাঁর পরিবারের কেবি কিছু জানতেন না। তাঁর দাবি, বোন যদি পরিবারের কাছে নিজের আপত্তির কথা জানাত, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই দেখা হতো। তিনি পুলিশকে বলেন, “সিয়া যদি কেতনকে পছন্দ না করত, আমরা নিজেরাই বিয়ে বন্ধ করে দিতাম।” (Ketan Agarwal Murder Case)
তদন্তে উঠে এসেছে, সিয়া গোয়াল এবং চেতন চৌধুরীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু দুই পরিবারের আর্থিক অবস্থার বড় পার্থক্যের কারণে সিয়ার পরিবার কেতনের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনটাই দাবি পুলিশের। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, পরিবারের অন্য সদস্যরা এই সম্পর্কের কথা কতটা জানতেন এবং সেই তথ্য গোপন করা হয়েছিল কি না।
পুলিশের অভিযোগ, ২৬ বছরের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আগেই করে ফেলেছিলেন সিয়া ও চেতন। লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের নামে নিয়ে গিয়ে তাঁকে গভীর খাদে ঠেলে হত্যা করা হয়। প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে এই ঘটনার অভিযুক্ত হিসাবে সিয়া ও চেতনকে গ্রেফতার করা হয়।
রাম মন্দিরে অনুদান দুর্নীতি ঘিরে তোলপাড়, উদ্ধার প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, সিয়া এবং চেতনের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে যোগাযোগ চলছিল। দু’জনের মধ্যে একাধিক ফোনকল এবং গোপন সাক্ষাতের তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ। মোবাইলের মুছে ফেলা চ্যাটও ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে ষড়যন্ত্রের পিছনে থাকা আরও তথ্য মিলতে পারে। (Ketan Agarwal Murder Case)
অন্যদিকে, কেতন আগরওয়ালের পরিবারও প্রশ্ন তুলেছে, যদি সিয়ার বিয়েতে আপত্তি থেকেই থাকে, তবে সরাসরি সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার পথ না বেছে এমন নৃশংস হত্যার পরিকল্পনা কেন করা হলো। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার নেপথ্যে প্রেমের সম্পর্ক, পারিবারিক চাপ এবং পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তাই সম্ভাব্য সবকটি দিকই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

