পাটনার দুই জনপ্রিয় শিক্ষক ‘রৌশন স্যার’ এবং ‘খান স্যার’-কে ঘিরে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের আবহে নতুন মোড়। নেপালে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে রৌশন আনন্দের ভাই প্রিন্সের (Prince Anand Death)। তিনি সম্প্রতি খান স্যারের কোচিং সেন্টারে ভাঙচুরের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন। ঘটনাকে ঘিরে বিহার ও নেপাল—দুই জায়গাতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, (Prince Anand Death) মৃত্যুর সময় প্রিন্স নেপালে তাঁর কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। স্থানীয় পুলিশের দাবি, ঘটনার আগে তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
(Prince Anand Death) ঘটনার পর নেপাল পুলিশ প্রিন্সের সঙ্গে থাকা পাঁচ বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তাঁদের বক্তব্য ও ফরেন্সিক রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রিন্সের পরিবারের সদস্যরা নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
Patna, Bihar: A case linked to the teacher Roshan Anand has drawn attention after reports emerged that his brother, Prince Yadav, died under suspicious circumstances at a hotel in Nepal.
— IANS (@ians_india) June 14, 2026
Advocate representing Roshan Anand, Niranjan Kumar Singh says, "We received a phone call in… pic.twitter.com/FqhGlPSgd9
(Prince Anand Death) এই মৃত্যুর ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন প্রিন্সের দাদা রৌশন আনন্দ ওরফে ‘রৌশন স্যার’ বর্তমানে পাটনার ভাঙচুর মামলায় জেলবন্দি। কয়েক সপ্তাহ আগে পাটনার খান গ্লোবাল স্টাডিজ (KGS) কোচিং সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর এবং গুলিচালনার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। সেই মামলায় রৌশন স্যারকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে জনপ্রিয় শিক্ষক ফয়সাল খান ওরফে ‘খান স্যার’ আদালতের তরফে অন্তর্বর্তী স্বস্তি পেয়েছেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, প্রিন্সের বিরুদ্ধে এর আগেও খান স্যারের প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ, ২০২১ সালে তিনি খান স্যারের ক্লাসরুমে ঢুকে হিংসাত্মক আচরণ করেছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
বছরের পর বছর ধরে রৌশন স্যার এবং খান স্যারের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ চলে আসছে। খান স্যার একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, তাঁর কোচিং সেন্টারে হামলা, বোমাবাজি এবং কর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনায় রৌশন স্যারের শিবির জড়িত। পাল্টা রৌশন স্যারও দাবি করেছেন, তাঁকে ফাঁসানোর জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছেন খান স্যার।
(Prince Anand Death) সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, বিহার পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করেই জ্ঞান বিন্দু GS একাডেমি এবং খান গ্লোবাল স্টাডিজ -দুই কোচিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। উভয় পক্ষই বিপুল সংখ্যক সফল পরীক্ষার্থীর কৃতিত্ব দাবি করে প্রচার চালাচ্ছিল। সেই প্রচার ঘিরে পোস্টার ছেঁড়া, সমর্থকদের মধ্যে মারামারি এবং পরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
তবে এই দ্বন্দ্বের শিকড় আরও পুরনো। পাটনার মুসল্লাপুর এলাকার কিষাণ কোল্ড স্টোরেজ ক্যাম্পাসে দুই কোচিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেও দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। সেই সংঘাতের মধ্যেই এবার নেপালে প্রিন্সের রহস্যমৃত্যু নতুন করে বহু প্রশ্নের জন্ম দিল।
আরও পড়ুন – ৪০ বছরেও জার্মানির শেষ ভরসা, কুরাসাও ম্যাচ দিয়ে অবসরের পরও বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন ন্যুয়ারের

