ভারতের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তামিলনাড়ুর কুডানকুলম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট-সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে কুখ্যাত র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী ওয়ার্ল্ড লিকস। হ্যাকারদের দাবি, অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ থেকে এই তথ্য চুরি করা হয়েছে। যদিও রয়টার্স জানিয়েছে, প্রকাশিত নথিগুলির সত্যতা তারা এখনও যাচাই করতে পারেনি।
এদিকে রিলায়েন্স গ্রুপ স্বীকার করেছে, তাদের একটি সার্ভারে আংশিক তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। সার্ভারটি পরিচালনা করছিল ডেটা সেন্টার সংস্থা ইয়োটা। সংস্থার দাবি, গত ২৯ মে সন্দেহজনক কার্যকলাপ ধরা পড়ার পরই সার্ভারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে রিলায়েন্স জানায়, একটি হ্যাকার গোষ্ঠী তথ্য চুরির দাবি করেছে। বিষয়টি সরকারকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। (Kudankulam Data Leak)
জানা গিয়েছে, ফাঁস হওয়া নথিগুলি ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়কার। এতে ইউনিট ৩ ও ৪-এর বায়ু চলাচল ও কুলিং সিস্টেমের নকশা, কন্ট্রোল রুমের সম্ভাব্য ফ্লোর প্ল্যান, অনুমোদিত সরবরাহকারী সংস্থার তালিকা, বৈঠক ও পরিদর্শনের নথি, যন্ত্রপাতি পর্যালোচনার রিপোর্ট, ছবি এবং বিমা সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। একটি নথিতে দাবি করা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদী হামলায় ক্ষতির জন্য ১১ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলারের বিমাও করা হয়েছিল। তবে রাশিয়ার রোসাটমের পাঠানো মূল পরমাণু চুল্লির প্রযুক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে কোনও প্রমাণ মেলেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নথি অপরাধীদের হাতে গেলে কেন্দ্রের সহায়ক ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব, যা ভবিষ্যতে দেশের জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
মার্কিন হামলায় কাঁপল চাবাহার-সহ ইরানের একাধিক শহর, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের
উল্লেখ্য, রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ২০১৮ সালে কুডানকুলমের ইউনিট ৩ ও ৪-এর অবকাঠামো নির্মাণের বরাত পায়। নির্মাণাধীন এই দুটি ইউনিট ২০২৭ সালে চালু হওয়ার কথা এবং সেখান থেকে মোট ২,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। (Kudankulam Data Leak)
বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে CERT-In এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া। তবে এই প্রথম নয়, ২০১৯ সালেও কুডানকুলম কেন্দ্রের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি ম্যালওয়্যার ধরা পড়েছিল, যদিও তখন মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় কোনও প্রভাব পড়েনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই ঘটনা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে এনে দিয়েছে।

