পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ জারি করল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। সরকার জানিয়েছে, দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সমস্ত খুচরা বিক্রেতার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি মজুত রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা বা মজুত করার থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।(LPG Cylinder)
সরকার আরও সতর্ক করেছে, খোলা পাত্রে জ্বালানি সংরক্ষণ করা বিপজ্জনক। এতে অগ্নিকাণ্ডসহ গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই কারণে গ্রাহকদের এমন কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মন্ত্রক জানিয়েছে, খুচরা বিক্রেতাদেরও কঠোরভাবে নির্দিষ্ট বিতরণ নীতি মেনে চলতে হবে। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘিত হলে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এলপিজি সরবরাহ নিয়েও আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিপণন ও তেল শোধনাগার বিভাগের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, দেশে এলপিজির সরবরাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় মজুত বাড়াতে ভারতীয় শোধনাগারগুলি উৎপাদন বাড়িয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে যে পরিমাণ উৎপাদন ছিল, তার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি এলপিজি উৎপাদন করা হচ্ছে। এর ফলে গৃহস্থালি, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার বণ্টনের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রাজ্যকে প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টনের মানদণ্ড নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত ৪৮ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যগুলিকে স্থানীয় পর্যায়ে বিতরণ কেন্দ্র চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির সত্ত্বেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারত বিকল্প আমদানি উৎস এবং জাহাজ চলাচলের পথ ব্যবহার করছে।
তিনি জানান, দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় মজুত না করার কথা বলা হয়।
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকার বিকল্প উৎসের দিকেও নজর দিচ্ছে। কয়লার সরবরাহ বাড়ানোর জন্য কোল ইন্ডিয়াকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কেন্দ্রের দাবি, এই বহুমুখী ব্যবস্থার ফলে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় কোনও সমস্যা তৈরি হবে না।











