রান্নার গ্যাস এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান নিয়ে উদ্বিগ্ন গ্রাহকেরা। তাঁদের বড় অংশের অভিযোগ, ফোন করে গ্যাস বুকিং করতে পারছেন না তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে সিলিন্ডার বুক করতে না পেরে দেশের নানা প্রান্তে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারগুলিতে ভিড় বাড়ছে। যে সমস্ত গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি করা নেই, তাঁরাও গ্যাস পেতে সেন্টারগুলোর সামনে ভিড় বাড়াচ্ছেন।
এই নিয়ে কোয়েম্বাটুরের কোভাইকেয়ার অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অচল শ্রীধরন বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে, বৈদ্যুতিক রান্নার পদ্ধতি অবলম্বন করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকবে না। “এটি বেঁচে থাকার প্রশ্ন, টিকে থাকার প্রশ্ন নয়। হ্যাঁ, খরচ কিছুটা বেশি হবে। তবে আমাদের এটি পরিচালনা করতে হবে।” গ্যাসের জোগান ব্যাহত হওয়ায় রাস্তার ধারের হোটেলগুলিতে কাঠ-কয়লার উনুনে রান্না করা হচ্ছে। হোম সার্ভিস চালাতে একই পথে হাঁটছেন অনেকেই।
এক কর্মকর্তারা বলছেন, ইনডাকশন(LPG vs Induction: LPG) ব্যবহার করায় গ্যাসের ঘাটতি দূর হবে। অন্যদিকে, ইন্ডাকশন ওভেন প্রায় ৭৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করবে। প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা করে খরচ হতে পারে, মোট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে ৬২৪ টাকা, যা গ্যাসের তুলনায় প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ টাকা সাশ্রয় করে। উদাহরণস্বরূপ, তামিলনাড়ুতে এই ব্যবধান আরও বেশি হতে পারে, যেখানে প্রতি মাসে প্রথম ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ আবাসিকদের জন্য বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
এলপিজির ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় রেস্তোরাঁগুলি রাভা দোসা, পরোটা এবং পিৎজার দাম কমিয়ে দিয়েছে। গ্যাস নির্ভরতা কাটাতে গ্রাহকদের অনেকেই বিকল্প উপায় খুঁজছেন। বিভিন্ন জেলার ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানগুলিতে ইনডাকশন অভেন কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন তাঁরা। এমনিতে দিনে তিন-চারটি ইনডাকশন বিক্রি হত। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন দিনে ৭০-৮০টা বিক্রি হচ্ছে।
দেশের প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই গ্যাসের জোগান ব্যাহত হয়েছে। এলপিজি সিলিন্ডার বুক করতে গিয়েই হোঁচট খাচ্ছেন অনেকে। গ্রাহকদের অভিযোগ, ফোনে বুকিং হচ্ছে না। অনেকে আবার বুক করার ৮ থেকে ১০ দিন পরেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। লাভ হচ্ছে না গ্যাসের দফতরে গিয়েও। এই পরিস্থিতিতে ট্রেনে রান্নার ক্ষেত্রেও গ্যাসের পরিবর্তে মাইক্রোওয়েভ কিংবা ইনডাকশন অভেন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে আইআরসিটিসি। আপাতত রেলের ‘ওয়েস্টার্ন জ়োন’কে এই পরামর্শ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
গৃহস্থালির গ্যাস ছাড়াও বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ায় বহু হোটেল এবং রেস্তরাঁর ঝাঁপ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে দেশের নানা প্রান্তে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতে দেশের বিভিন্ন খুচরা বাজারগুলোতে রান্নাঘরের বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে ইন্ডাকশন ওভেনের বিক্রি তিনগুণ বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা শনিবার থেকেই এই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করেছেন।

