বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল জোরকদমে। দুই পরিবারের মধ্যে ইতিমধ্যেই পরিচয়পর্ব সেরে ফেলা হয়েছিল। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চার হাত এক হওয়ার কথা ছিল নীলেশ কুমার ও অনামিকা সামন্তর। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। সোমবার উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান এই যুগল। একই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৫ জনের। আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। (Lucknow Fire News)
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে আলিগঞ্জের একটি তিনতলা বাণিজ্যিক ভবনে আগুন লাগে। ওই ভবনেই একটি অ্যানিমেশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল। সেই সময় বহু ছাত্রছাত্রী এবং কর্মী ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপস্থিত ছিলেন। আচমকাই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই ভিতরে আটকে যান। দমকলের দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে প্রাণহানি ঘটে বহু মানুষের। (Lucknow Fire News)
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২৭ বছরের নীলেশ কুমার এবং ৩০ বছরের অনামিকা সামন্ত। দু’জনেই ওই অ্যানিমেশন সেন্টারের কর্মী ছিলেন। কর্মক্ষেত্রে পরিচয় থেকে তাঁদের সম্পর্কের শুরু। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়েকদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনামিকার বাবা-মা লখনউয়ে গিয়ে নীলেশের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এমনকি একটি ছোট অনুষ্ঠানও হয়েছিল। আগামী সপ্তাহে নীলেশের পরিবারের সদস্যদের পশ্চিমবঙ্গে যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিট পর্যন্ত কাটা ছিল। (Lucknow Fire News)
পরিবারের সদস্যদের দাবি, নীলেশ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলেন। শীঘ্রই তাঁর পদোন্নতি এবং বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা ছিল। নতুন বাড়ির কাজও চলছিল। সেই বাড়ি সম্পূর্ণ হওয়ার পরই বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। বিয়ের জন্য অর্থ সঞ্চয়ের পাশাপাশি পরিবারের নতুন বাড়ি তৈরিতেও সাহায্য করছিলেন তিনি। (Lucknow Fire News)
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও একটি আঘাত নেমে এসেছে অনামিকার পরিবারের উপর। তাঁর ২৭ বছর বয়সি খুড়তুতো বোন সোমিল্যাও ওই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। যে পরিবারগুলি কয়েক ঘণ্টা আগেও বিয়ের দিনক্ষণ ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিল, সোমবার সন্ধ্যার পর তাদেরই ছুটতে হয়েছে হাসপাতাল ও ময়নাতদন্ত কেন্দ্রে। আনন্দের প্রস্তুতি মুহূর্তে বদলে গিয়েছে শোকের আবহে। (Lucknow Fire News)
আরও পড়ুন :- লখনউয়ে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ বাঁচাতে থেকে ঝাঁপ, মৃত্যু ১৩ জনের

