লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ উঠল। অভিযুক্ত জুওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পরমজিৎ সিংকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। (Lucknow University)
ঘটনায় জড়িত বিএসসি জুওলজির ফাইনাল ইয়ারের এক ছাত্রী দুটি অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ্যে এনেছেন। রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, অধ্যাপক পরমজিৎ সিং ছাত্রীকে ‘ডার্লিং’ সম্বোধন করে বলছেন, “ডার্লিং, তোমার জন্য দুটো পেপার রিকভার করেছি। কবে আসবে দেখা করতে?” ছাত্রী জানান, তিনি নিজে পড়াশোনা করে সিলেবাস শেষ করেছেন। অধ্যাপকের পাল্টা প্রশ্ন, “তাহলে একবারও দেখা করবে না?” ছাত্রী বাড়ির কাজকর্মের কথা বললে অধ্যাপক জোর দিয়ে বলেন, “চেষ্টা নয়, পরীক্ষার আগে সাত দিনের মধ্যে আসতেই হবে।” রেকর্ডিং শেষে ছাত্রী দাবি করেন, তাঁকে আবার হেনস্থা করার জন্য ডাকা হচ্ছে। কোনও কোনও রিপোর্টে জানানো হয়েছে, অধ্যাপক ইমিউনো জেনেটিক্স ও জেনোমিক্সের প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা বলেছিলেন। (Lucknow University)
ছাত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে দুটি অডিও ক্লিপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেন। এরপর লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশনস বিদ্যানন্দ ত্রিপাঠী অভিযোগ দায়ের করেন। হাসানগঞ্জ থানায় অশ্লীল আচরণ ও অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়। শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) অধ্যাপককে গ্রেফতার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর জেপি সাইনি অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটিকে (আইসিসি) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার অভিযুক্ত অধ্যাপক, ওই ছাত্রীসহ অন্য ছাত্রছাত্রীদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার পুরোপুরি তদন্ত শুরু করেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কোনও ঘটনা গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। (Lucknow University)
অভিযুক্ত পরমজিৎ সিং সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনা নিয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। লক্ষ্ণৌ ইউনিটের প্রেসিডেন্ট জয় শ্রীবাস্তব দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ ও উত্তরপ্রদেশ সরকারকে পরীক্ষার সততা রক্ষা এবং যৌন হয়রানির কঠোর আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁরা অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনা দেশ জুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রসঙ্গকে নতুন করে তুলে ধরেছে। বর্তমানে নিট ইউজি ২০২৬ সংক্রান্ত তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশ্ন তৈরির প্যানেল থেকেই ফাঁস ! NEET কাণ্ডে গ্রেফতার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক

