শেরওয়ানি পরে, গলায় গাঁদা ফুলের মালা, হাতে মিষ্টির বাক্স— জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার স্বপ্ন নিয়ে বিয়ের মণ্ডপে হাজির হয়েছিলেন ৪২ জন যুবক। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও এল না একটিও কনে। শেষে জানা গেল, (Mass Wedding Scam) গোটা আয়োজনটাই ছিল সাজানো প্রতারণা। মধ্যপ্রদেশের দেওয়াসে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এখন রাজ্য জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।
রবিবার মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় কথিত এক গণবিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিভিন্ন গ্রাম ও জেলা থেকে হাজির হয়েছিলেন বহু যুবক ও তাঁদের পরিবার। কারও বাড়িতে নিমন্ত্রণ হয়ে গিয়েছিল, কেউ আবার আত্মীয়দের সঙ্গে গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতেই ধীরে ধীরে সামনে আসে বাস্তব চিত্র—কোনও কনে নেই, আয়োজকরাও উধাও।
(Mass Wedding Scam) পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে টাকা তুলেছে একটি চক্র। অভিযোগ, ইন্দোরের একটি অনাথ আশ্রমের নাম ব্যবহার করে এই প্রতারণা চালানো হয়েছিল।
ব্যাঙ্ক নোট প্রেস থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রীতি কাটারে জানিয়েছেন, একাধিক যুবকের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে খোঁজ চালানো হচ্ছে। যে অনাথ আশ্রমের নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
(Mass Wedding Scam) অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি বরের কাছ থেকে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, সব আয়োজন করা হবে—কনে, বিয়ের অনুষ্ঠান, এমনকি সংসারের কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রীও দেওয়া হবে।
অপরাধ দমনে মরিয়া ওডিশার পুলিশ, ১০ দিনে পাঁচবার জোড়া এনকাউন্টার বেরহামপুর শহরে
দেওয়াসের হারনিয়াকালান গ্রামের বাসিন্দা রাহুল জানান, তাঁদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে ‘রেজিস্ট্রেশন ফি’ দিতে বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল কনেরা ইন্দোরের ‘মাতৃ ছায়া আশ্রম’ থেকে আসবেন। কনের ছবি চাইলে মোবাইলে কিছু ছবি পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, সেই ছবিগুলি আদতে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নেওয়া মডেলদের ছবি ছিল। রাহুলের কথায়, “আমাদের বলা হয়েছিল একদিন আগে পৌঁছতে। পরদিন সকালে গণবিবাহ হবে। এমনকী সংসারের জিনিসপত্র দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে দেখি কেউ নেই। কিছুক্ষণ পর থেকেই সব ফোন বন্ধ।”
আর এক বর অশোক জানান, তাঁদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন সাধারণ পোশাকে আসেন। কারণ, বরের পোশাক, সাজসজ্জা ও বিয়ের সব আচার অনুষ্ঠানস্থলেই হবে। (Mass Wedding Scam) অশোক বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল আগে থেকে হলুদ বা মেহেন্দি কিছুই লাগানো যাবে না। সবকিছু ওখানেই হবে।”
ভোপাল থেকে ভাইয়ের বিয়ের জন্য আসা ওমপ্রকাশ জানান, মোবাইলে পাঠানো ছবির ভিত্তিতেই তাঁরা কনে পছন্দ করেছিলেন। অনলাইনে নথিও জমা দেওয়া হয়েছিল।
এক বরপক্ষের সদস্য রাজকুমারীর দাবি, “আমাদের বারবার বলা হচ্ছিল ম্যাডাম কনেদের নিয়ে আসছেন। কিন্তু রাত পর্যন্ত কেউ এল না। অনেকেই গাড়ি ভাড়া করে এসেছিলেন। আত্মীয়দেরও ডাকা হয়েছিল। সবাই অপমানিত হয়ে ফিরেছেন।”
আরও শক্তি বাড়ছে ভারতের? ইন্দো-প্যাসিফিক সম্পর্ক নিয়ে বড় বার্তা দিলেন এস জয়শঙ্করের
শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, এই ঘটনায় সামাজিকভাবে অপদস্থ হওয়ার কথাও উঠে এসেছে অভিযোগকারীদের মুখে। বহু পরিবার এলাকায় বিয়ের খবর ছড়িয়ে দিয়েছিল। পরে বিয়ে না হওয়ায় তাঁদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।
(Mass Wedding Scam) পুলিশ সূত্রে খবর, ২৪ মে ঘটনার অভিযোগ দায়ের হয়। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত মুকেশ এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের কার্যপদ্ধতি জানার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের বাড়ি বিদিশা জেলায় হওয়ায় তদন্তকারী দল সেখানেও গিয়েছে। আরও কেউ এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গণবিয়ের স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া ৪২ জনের কাছে দিনটি হয়ে রইল জীবনের অন্যতম তিক্ত অভিজ্ঞতা। বিয়ের মণ্ডপে অপেক্ষা, ফোনের ওপারে আশ্বাস আর শেষে শূন্য মঞ্চ—এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, বিয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে হাতিয়ার করে প্রতারণা কতটা সংগঠিত আকার নিচ্ছে।
নতুন সিনেমাকে বাড়তি ৫টি শো চালানোর অনুমতি, চলচ্চিত্র জগতের জন্য বড় ঘোষণা বিজয়ের

