ইস্তফা দিতেই হবে। নাহলে বরখাস্ত করা হোক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ না করার বিষয়ে এমনটাই দাবি করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Mamta Banerjee)। মঙ্গলবার রাতে একটি NDTV-কে তিনি বলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তটি কেবল একটি উপায়েই মোকাবিলা করা সম্ভব—তা হলো তাঁকে বরখাস্ত করা।
প্রসঙ্গত, বাংলার পাশাপাশি বিধানসভা ভোট ছিল প্রতিবেশি রাজ্য অসমেও। হিমন্তের নেতৃত্বে বিজেপি টানা তৃতীয়বার এবার অসমে ক্ষমতায় এসেছে। হিসেব মতো এবারও তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। ফল বেরোনোর পর প্রথম মেনে তিনি রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছেন। নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে অনুরোধ করেছেন রাজ্যপাল।
এই প্রচলিত প্রথা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথা হলো, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হারুন বা জিতুন, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়ার আগে প্রথা মেনে তিনি রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দেন। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তাই শুধু নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও হেরে গিয়েছেন। তারপরও ইস্তফা না দিয়ে মঙ্গলবার বিকালে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তিনি ও তাঁর দলকে নির্বাচন কমিশন হারিয়ে দিয়েছে। বাংলার জনগণের ভোটে তাঁরাই নির্বাচিত হয়েছেন। তাই ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন নেই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মঙ্গলবার রাতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী (Mamta Banerjee) আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুবিধ ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অপকর্ম সত্ত্বেও বাংলা তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে সহ্য করে এসেছে। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তবে তাঁকে বরখাস্ত করা হবে। দেশের শাসনব্যবস্থা তাঁর খেয়ালখুশি মাফিক চলে না। রাজ্যপাল একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন এবং এরপর তাঁকে বরখাস্ত করা হবে—বিষয়টি ঠিক এতটাই সহজ”।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আপনারা সীমান্তে বেড়া দিতে দেন না, আর এখন দাবি করছেন যে আপনাদের কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে? এই ফলাফল তো আপনাদের অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আপনাদের অনেক কিছু দিয়েছে। আর আজ, তারা বিজেপিকে তাদের রায় দিয়েছে।”

