আত্মসমর্পণ করলেন ৩৫ বছরের ধরে সক্রিয় মাওবাদী নেতা পাপা রাও (Maoist Top-Leader) সহ ১৭ জন। মঙ্গলবার ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে জেলা সদর দফতরে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা। প্রশাসনের হাতে অত্যাধুনিক সমস্ত অস্ত্র তুলে দেন আত্মসর্পণকারী মাওবাদীরা। পাপা রাও-এর মাথার দর ২৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল সরকার। দীর্ঘদিন ধরেই ছত্তিশগড়ে বস্তারের দুর্গম অরণ্য ছিল মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি। পাপা রাওয়ের মতো এক প্রবীণ কমান্ডারের আত্মসমর্পণে প্রশাসনিক মহলে বড় সাফল্য মনে করা হচ্ছে।
ঘন জঙ্গলঘেরা বস্তার। সেখানেই দীর্ঘদিন ধরে গোপন ডেড়ায় ঘাঁটি গেড়ে থাকত মাওবাদীরা। সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাওবাদীদের সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। সেইসঙ্গে জঙ্গলের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। এরফলে মাওবাদীদের চলাচল ও তাদের কার্যকলাপ অনেকটাই কঠিন ও ছোট হয়ে পড়তে থাকে।
এরফলেই একের পর এক মাও শীর্ষ নেতারা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। বস্তার অঞ্চলে মাওবাদী প্রভাব কমতে থাকায় অন্য সদস্যদের মধ্যেও আত্মসমর্পণের প্রবণতা বাড়াতে পারে।
জানা গিয়েছে, পাপা রাওকে দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির (Maoist Top-Leader) শেষ বড় মাওনেতা হিসেবে মনে করা হয়। পাপা রাওয়ের গ্রেফতার মাওবাদীদের কার্যকলাপে বড় ধাক্কা। আরও মাওবাদী বস্তারের জঙ্গলে থাকলে, তারা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়বে। এরফলে বস্তার অঞ্চলে মাওবাদী প্রভাব আরও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

