প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে তৈরি ট্যাবলো ছিল এ বছরের অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু সেই গৌরবের মুহূর্তেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল নামোচ্চারণের বিভ্রাট। কর্তব্য পথে কুচকাওয়াজ চলাকালীন বাংলার ট্যাবলো সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরার নাম ভুল উচ্চারণ করেন ঘোষিকা (Matangini Hazra)। ‘মাতঙ্গিনী হাজরা’র বদলে তাঁর মুখে শোনা যায় ‘মান্তাগিনী হাজরা’। এই ভুল সংশোধনও করা হয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
এই ঘটনাকে অনেকেই দেখছেন ধারাবাহিক এক প্রবণতার অংশ হিসেবে। এর আগেও সংসদে দাঁড়িয়ে ‘বন্দেমাতরম’ রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন আপত্তির মুখে তিনি পরে ভুল সংশোধন করলেও বিষয়টি বাংলার সাংস্কৃতিক আবেগে গভীর আঘাত হেনেছিল। আবার এক সময়ে বিজেপি সাংসদ দীনেশ শর্মা মাতঙ্গিনী হাজরার নাম ভুল উচ্চারণ করে তাঁকে ‘মাতা গিনি হাজরা’ বলেছিলেন। সেই ঘটনার পরেও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।
এ বার কর্তব্য পথের মঞ্চে একই ভুল হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। কলকাতা দক্ষিণের তৃণমূল সাংসদ মালা রায় এই ঘটনাকে ‘মাতঙ্গিনী হাজরার অপমান’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, ইতিহাস না পড়ে, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবন না জেনেই এমন ভুল করা হচ্ছে। বিরোধীদের মতে, বারবার বাংলার মনীষীদের নাম বিকৃত হওয়া শুধু ভাষাগত ভুল নয়, এটি সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতার প্রতিফলন।
উল্লেখযোগ্য, এ বছরের ট্যাবলোর থিম ছিল ‘স্বতন্ত্র কা মন্ত্র: বন্দেমাতরম’। বঙ্কিমচন্দ্রের মডেলের সামনে মাতঙ্গিনী হাজরা, সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষুদিরামের মতো বিপ্লবীদের সমান গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছিল। বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসের সেই মঞ্চেই নাম বিভ্রাট নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—জাতীয় মঞ্চে কি এখনও বাংলার মনীষীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে?

