Site icon Hindustan News Point

N. Chandrababu Naidu: সন্তান জন্মালেই মিলবে টাকা, বড় ঘোষণা এই রাজ্যের


জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে নতুন নীতির ঘোষণা করলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু (N. Chandrababu Naidu)। জনসংখ্যার হার বাড়াতে এই নতুন জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা নীতি ঘোষণা করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় এই নীতির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এই প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তানের জন্ম হলে পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধাও থাকবে। ওই সন্তানের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে ১,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থাও থাকবে ।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৫৮ শতাংশ পরিবারের মাত্র একটি সন্তান রয়েছে। প্রায় ২.১৭ লক্ষ পরিবারের দুটি সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৬২ লক্ষ পরিবারের তিন বা তার বেশি সন্তান রয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় তিন লক্ষ পরিবারে একটি সন্তানের বেশি নেই, আবার আরও প্রায় তিন লক্ষ পরিবারে দুটির বেশি সন্তান রয়েছে। নাইডু বলেন, অন্ধ্রপ্রদেশে টোটাল ফার্টিলিটি রেট (TFR) ১৯৯৩ সালে ছিল ৩.০। বর্তমানে তা কমে ১.৫-এ নেমে এসেছে। অথচ জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে আদর্শ TFR হওয়া উচিত ২.১।

তাঁর মতে, কম ফার্টিলিটির হার ভবিষ্যতে কর্মশক্তির ঘাটতি তৈরি করতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির উপরও প্রভাব পড়তে পারে। তিনি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইতালির উদাহরণ তুলে ধরেন। যেখানে কম জন্মহার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই নীতি কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে। এর আওতায় দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তানের জন্মে ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার পাশাপাশি তৃতীয় সন্তানের জন্য অতিরিক্ত মাসিক সহায়তা দেওয়া হবে।

নীতিতে আরও কয়েকটি সামাজিক সুবিধার প্রস্তাব রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ১২ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং দুই মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি। তৃতীয় সন্তানের জন্মের ক্ষেত্রে বিশেষ ছুটির ব্যবস্থাও থাকবে। প্রতি ৫০টি শিশুর জন্য একটি করে শিশু যত্ন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। কর্মজীবী মহিলাদের জন্য বিভিন্ন সুবিধার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মজীবী মহিলাদের হোস্টেল, ‘পিঙ্ক টয়লেট’ এবং নিরাপত্তার জন্য ‘শি ক্যাব’ পরিষেবা চালুর প্রস্তাব রয়েছে।

বিশাখাপত্তনমে ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল তৈরি করা হবে। এছাড়া সরকার আইভিএফ পরিষেবা দেওয়ার জন্য মাতৃত্ব কেন্দ্র গড়ে তুলবে। সিজারিয়ান অপারেশন কমানোর দিকেও জোর দেওয়া হবে। রাজ্যের ১৭৫টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দুই সপ্তাহের জন্য বিশেষ ক্লিনিক চালু করা হবে। শিশু যত্ন শিক্ষকদেরও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে তার হার ৩১ শতাংশ। সরকার এটিকে ৫৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।’ এতে রাজ্যের মোট জিএসডিপি(GSDP) বৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশে পৌঁছাতে সহায়তা করবে বলে তিনি জানান। খসড়া নীতির উপর জনসাধারণের মতামত জানাতেও আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


Exit mobile version