ভারতের রাজনীতিতে নতুন মাইলফলক। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেলেন নরেন্দ্র মোদী। দেশে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালনে নজির গড়লেন মোদী। বিশ্বের দরবারে রাষ্ট্রনেতাদের বাহবাও কুড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
উল্লেখ্য, ১২ বছরের বেশি সময় ধরে ভারতীয় জনতা পার্টি ভারতে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে ক্ষমতায় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদী শপথ নিয়েছিলেন ২০১৪ সালে ২৬ মে। তারপর ২০১৯ ও ২০২৪। তিনবার পরপর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন তিনি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদে টানা ৪,৩৯৯ দিন পূর্ণ করেছেন তিনি। যেখানে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু টানা ৪,৩৯৮ দিন প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালের ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালের ২৭ মে পর্যন্ত অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তিনি এই পদে অসীন ছিলেন (Narendra Modi)।
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজির গড়ার পর রাষ্ট্রনেতারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েক বলেন, ‘শুধুমাত্র আপনার দীর্ঘ কর্মকালেরই নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণ আপনার নেতৃত্বের ওপর বারবার যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন।’ এছাড়াও পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে-সহ একাধিক বিদেশি রাষ্ট্রনেতাও মোদীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এই রেকর্ডের জন্য।
বিশ্বের দরবারে নরেন্দ্র মোদীর এই সাফল্যকে স্মরণীয় রাখতে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের ৭২ জন শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে তাঁকে সম্মান জানানো হবে। এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘দেশের মানুষের বিশ্বাস, উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলনই ১২ বছরের এই যাত্রা। যুবসমাজ, নারী এবং কৃষকদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নতুন পরিচিতি পেয়েছে।’
ভারতীয় জনতা পার্টি শুধুমাত্র কেন্দ্রের রাজ্যগুলিতেই আটকে থাকেনি। বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠনের বিস্তার ঘটিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যেও নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে দলটি। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন,শুধুমাত্র এই কারণ গুলিই দীর্ঘ পথ চলতে সাহায্য করছে।

