ট্রেন লেটের ঘটনা নতুন না। যারা প্রতিদিন যাতায়াত করেন তাঁরা এই ট্রেন লেটের সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু এই ট্রেন লেটের জন্য এ বার কড়া শাস্তির মুখে পড়ল ভারতীয় রেল (Fine to Indian Railways)। জেলা ভোক্তা আদালত ভারতীয় রেলকে জরিমানা করল। আর এটা করতে লেগে গেল সাত মাস।
ঘটনাটি ২০১৮ সালের। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সমৃদ্ধি সিং NEET পরীক্ষায় বসার জন্য উত্তর প্রদেশের বস্তি থেকে লখনউ যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইন্টারসিটি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের টিকিট কাটেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে রিপোর্ট করার সময় ছিল দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে। ট্রেনটির নির্ধারিত সময়ে চারবাগ স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল সকাল ১১টায়। কিন্তু বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ট্রেনটি পৌঁছয় দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে পারেননি তিনি এবং সেই বছরের মতো বাতিল হয়ে যায় তাঁর পরীক্ষা।
এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও আইনের দ্বারস্থ হন সমৃদ্ধি। রেল মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নোটিস পাঠিয়েও কোনও সদুত্তর না পেয়ে তিনি জেলা উপভোক্তা কমিশনে মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানির পরে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি অমরজিৎ বর্মা ও সদস্য অজয় প্রকাশ সিং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ট্রেন বিলম্বের দায় এ ক্ষেত্রে পুরোপুরি রেলের। তাঁদের মতে, এই বিলম্বের ফলে পড়ুয়ার কেরিয়ারের একটি অমূল্য বছর নষ্ট হয়েছে, যার ক্ষতিপূরণ অর্থে পুরোপুরি সম্ভব নয়, তবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ জরুরি। এই ঘটনার পর প্রায় সাত বছর পরে ন্যায়বিচার পেলেন তিনি। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভারতীয় রেলকে ওই পড়ুয়াকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে ৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না মেটালে তার উপর ১২ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে রেলকে।
এই রায়ের মধ্যেই উঠে এল ভারতীয় রেলের আর এক নতুন দিক। যাত্রী পরিষেবা ও নিরাপত্তা বাড়াতে বিশাখাপত্তনম স্টেশনে পরীক্ষামূলক ভাবে কাজে নামানো হয়েছে মানবাকৃতি রোবট ‘এএসসি অর্জুন’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে তৈরি এই রোবট ভিড় নিয়ন্ত্রণ, ঘোষণা করা, এমনকি আগুন ও ধোঁয়া শনাক্ত করতেও সক্ষম।
এক দিকে প্রযুক্তির সাহায্যে রেল আধুনিকতার পথে হাঁটছে, অন্য দিকে পুরনো গাফিলতির জন্য দিতে হচ্ছে মোটা ক্ষতিপূরণ। এই মামলার রায় রেলের জন্য এক বড় শিক্ষা বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা। যাত্রী পরিষেবায় সামান্য ত্রুটিও যে কারও জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল এই রায়।

