তেলঙ্গানা বিরাট সংকটে পড়ল। রাজ্য জুড়ে সমস্ত মুরগির মাংসের (No Chicken Available) দোকান বন্ধ। ১ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্কালের জন্য সেখানে স্ট্রাইক শুরু করল মুরগি ব্যবসায়ীরা। লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় রাজ্য জুড়ে সমস্ত মুরগির দোকান অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল এই রাজ্যের ব্যবসায়ীরা। তেলঙ্গানার চিকেন শপ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ওনার্সের তরফে জানানো হয়েছে, মুরগি বিক্রি করে এইমুহুর্তে দোকানদারদের যে হারে লাভ হচ্ছে, সেটা এতটাই কমে গিয়েছে যে, তাদের পক্ষে ব্যবসা চালানো খুবই কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে।
এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা দোকান মালিকরাও জানিয়েছেন যে, প্রতি কেজি মুরগির মাংসের জন্য তাঁরা যে কমিশন পেতেন, তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেজন্যই এবার তাঁরা সংঘবদ্ধভাবে রাজ্য জুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুরগি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিগত দুই দশক ধরে পোল্ট্রি কোম্পানিগুলো খুচরো ব্যবসায়ীদের জন্য প্রতি কেজিতে ২৬ টাকা করে মুনাফা বেঁধে রেখেছিল। কিন্তু এইমুহুর্তে সেই মুনাফা কমিয়ে প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা করায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
তেলেঙ্গানার এক মুরগি বিক্রেতা জানিয়েছেন, “মুরগি আনার খরচ, দোকানের ভাড়া এবং শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার পর ন্যূনতম লাভও বাকি থাকে না। সেক্ষেত্রে তাই পোল্ট্রি কোম্পানিগুলোর ইতিবাচকভাবে সাড়া দেওয়া উচিত। তারা যদি এগিয়ে না আসে তাহলে দোকানগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করবে।” এতে মাথায় হাত পড়েছে ক্রেতাদেরও। কারণ তেলেঙ্গানার মতো একটি রাজ্যে যেখানে মাংস (No Chicken Available) দৈনন্দিন খাবারের অংশ, সেখানে দাঁড়িয়ে এই ধর্মঘট স্থানীয়দের লাইফস্টাইলে আঘাত হানবে।
কবে এই অচলাবস্থা ঘুচবে? ‘চিকেন রিটেলার্স অ্যাসোসিয়েশনে’র প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাঁরা আশা করছেন, সরকার বিষয়টায় দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে। তাঁরা ন্যায় পাবেনই। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সেক্টরে কাজ করেন। এটা যদি অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ থাকে তবে অনেকেরই বড় রকম ক্ষতি হয়ে যাবে।

