২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও বিয়েতে মনমতো পণ না পাওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন করে খুনের অভিযোগ উত্তরপ্রদেশের নয়ডার এক পরিবারের বিরুদ্ধে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই লাগাতার পণের জন্য মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হতো ২৫ বছরের দীপিকা নাগরের উপর। শেষ পর্যন্ত রবিবার শ্বশুরবাড়ির তিনতলা বিল্ডিং থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। যদিও শ্বশুরবাড়ির তরফে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হলেও দীপিকার পরিবারের অভিযোগ এটি আসলে খুন। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় স্বামী ঋত্বিক তানওয়ার এবং শ্বশুর মনোজ তানওয়ারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার গভীর রাতে গ্রেটার নয়ডার জলপুরা এলাকার ইকোটেক-৩ থানার অন্তর্গত একটি তিনতলাবাড়ি থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন দীপিকা। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে মেয়ের পরিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এটা কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা নয়। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পণের জন্য তাদের মেয়ের ওপর নির্যাতন চলছিল এবং শেষ পর্যন্ত মেয়েকে খুন করা হয়েছে।
দীপিকার বাবা সঞ্জয় নারাং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মেয়ের বিয়েতে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করেছিলেন তাঁরা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে খুব ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল দীপিকার। সেই সময় পণ বাবদ নগদ ১১ লক্ষ টাকা ক্যাশ, প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সোনা, আসবাবপত্র এবং একটি স্করপিও গাড়িও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হয়নি শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই শুরু হয় নতুন দাবি- একটি ফরচুনার গাড়ি এবং আরও ৫১ লক্ষ টাকা। (Noida Woman Death Dowry)
কাঁদতে কাঁদতে দীপিকার বাবা বলেন, “ওরা ফরচুনার গাড়ি চাইছিল, ৫১ লাখ টাকা চাইছিল।” তাঁর দাবি, বিয়ের তিন-চার মাস পর থেকেই মেয়ের উপর অত্যাচার শুরু হয়। যদিও সেই সময় তাঁরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেননি। কারণ তাঁরা ভেবেছিলেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। মেয়ের সংসার বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আর মেয়েকেই বাঁচাতে পারলেন না।
US Navy Pilots Survived: ট্রেনিংয়ের সময়ে মাঝ আকাশে সংঘর্ষ, একটুর জন্য প্রাণে বাঁচলেন চার পাইলট
দীপিকার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ধারালো জিনিস দিয়ে অত্যাচার করা হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়েকে খুন করে আত্মহত্যার গল্প সাজানোর জন্য ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। যদিও পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃতার স্বামী এবং শ্বশুরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। সেই রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। (Noida Woman Death Dowry)
এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মাত্র ১৭ মাসের দাম্পত্য জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতি ফের একবার সমাজে ঘৃণ্য পণপ্রথা এবং গৃহবধূদের ওপর অত্যাচারের ভয়াবহ বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে।

