শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটল ওডিশার কেন্দ্রাপারা জেলার এক বেসরকারি স্কুলে। অভিযোগ, জেলার ওই ইংরাজি মাধ্যমের স্কুলে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে এক বছর ধরে ধর্ষণ করা হচ্ছিল। এই মর্মে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ চার জন শিক্ষক ও স্কুলের এক পিয়নতে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে POCSO ও BNS-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। (Odisha)
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি সামনে আসে গত মাসে। নাবালিকা তার মা-কে ঘটনার কথা জানায়। এর পরেই পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনাগুলি দীর্ঘ সময় ধরে ঘটেছে। নাবালিকা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বয়ান দিয়েছে এবং তার শারীরিক পরীক্ষাও হয়েছে। (Odisha)
পুলিশে অভিযোগ জানানোর পর শিশু সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা স্কুলে যায় এবং তাদের পক্ষ থেকেও আলাদা করে তদন্ত শুরু করা হয়।
অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে তোলা হয়েছে। এই ঘটনাটি নিয়ে কেন্দ্রাপারার পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ কাটারিয়া বলেন, ‘এটা একটা সংবেদনশীল ইস্যু, আমরা সিনিয়র অফিসারদের নিয়োগ করেছি এই ঘটনার তদন্তের জন্য। পাশাপাশি মহিলা পুলিশকর্মীদের নিয়ে একটি আলাদা টিম তৈরি করা হয়েছে বিষয়টা খতিয়ে দেখার জন্য।’ (Odisha)
অভিযোগে বলা হয়েছে, নাবালিকাকে তার শিক্ষিকারা দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ কর। শুধু তাই নয়, পুরুষ শিক্ষকদের পাশাপাশি একজন মহিলা শিক্ষিকাও ছিল, যে অভিযুক্তদের আড়াল করার কাজ করত। ধর্ষণের পর নাবালিকাকে হুমকি দেওয়া হয় বিষয়টা বাইরে না জানাতে।
এই বিষয়ে পরিবারের জানায়, তারা স্কুলকে বিষয়টা জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। স্কুলের প্রিন্সিপাল জানান, তাঁরা বিষয়টা জেনেছেন শিশু সুরক্ষা কমিটির কাছে অভিযোগ জানানোর পরেই। পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে স্কুলের ভূমিকা ও খতিয়ে দেখছে। (Odisha)
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শিশু অধিকার কর্মীদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ সামনে এলে দ্রুত পদক্ষেপ ও স্বচ্ছ তদন্তই সবচেয়ে জরুরি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কড়া নজরদারি দরকার। প্রশাসন জানিয়েছে, নাবালিকার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা ও আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছে এবং তাকে উপযুক্ত কাউন্সেলিং দেওয়া হবে। (Odisha)












