২৬ জানুয়ারি সকালে ভারতের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে দিল্লির কর্তব্য পথ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল। তেরঙার সামনে ভারতের সামরিক শক্তির এক অনন্য নিদর্শন তুলে ধরল তিন বাহিনীর সম্মিলিত ট্যাবলো। এবারের কুচকাওয়াজে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পরিচালিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুর’। (Republic Day)
‘Victory Through Jointness’ বা ‘সমন্বয়েই বিজয়’—এই থিমকে সামনে রেখে তৈরি ট্যাবলোটি ভারতের স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনীর অদম্য সংহতি ও সংকল্পের প্রতীক। এই প্রদর্শনী কেবল কুচকাওয়াজ নয়, বরং এটি ছিল বিশ্বের দরবারে ভারতের আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর এবং ‘মিশন-ওরিয়েন্টেড’ সামরিক শক্তির এক ঘোষণা। (Republic Day)
অপারেশন সিন্দুর-এর প্রেক্ষাপট (Republic Day)
গত বছর পহেলগামে এক মর্মান্তিক জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটক প্রাণ হারান। সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিন্দুর’। ২০২৫ সালের ৭ মে ভোরে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) ভেতরে জঙ্গি ডেরাগুলোতে অতর্কিতে আঘাত হানে। চার দিন ধরে চলা এই লড়াইয়ে পাকিস্তান ভারতের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করলেও ভারতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা সফলভাবে রুখে দেয়। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সেনার দাপটে টিকতে না পেরে ১০ মে পাকিস্তানি কমান্ডাররা নিজেরাই যুদ্ধবিরতির আবেদন করতে বাধ্য হন। (Republic Day)
ট্যাবলোর বিশেষত্ব (Republic Day)
প্রজাতন্ত্র দিবসের এই কুচকাওয়াজে কর্তব্য পথে দেখা গেল কীভাবে তিন বাহিনী একত্রে কাজ করে শত্রুপক্ষকে পরাস্ত করেছে। ট্যাবলোটিতে বিমানবাহিনীর নিখুঁত এয়ার স্ট্রাইক, নৌবাহিনীর সমুদ্রসীমার আধিপত্য নিশ্চিত করা দ্রুত চালচলন এবং স্থলবাহিনীর অপ্রতিরোধ্য অভিযানের এক জীবন্ত রূপ ফুটে ওঠে। এটি মূলত ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভবিষ্যৎমুখী রূপান্তরের চিত্র।এই বিশেষ দিনে ভারত আবারও বুঝিয়ে দিল—সীমান্তের নিরাপত্তা এবং দেশবাসীর সুরক্ষায় ভারতের তিন বাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি একতাবদ্ধ এবং যে কোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় প্রস্তুত। (Republic Day)

