ফের সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা (Pawan Khera)। শুক্রবার তাঁর অন্তর্বর্তী ট্রানজিট জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং তাঁর স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়া সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া FIR-এর জন্য তেলঙ্গানা হাইকোর্ট থেকে এক সপ্তাহের অন্তর্বর্তী ট্রানজিট জামিন পেয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা (Pawan Khera)। বুধবার সেই জামিনের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় শীর্ষ আদালত। এরপর তিনি ফের জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে শুক্রবার সেই আবেদনও খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তাহলে কি এবার গ্রেফতার হবেন পবন?
অসমে ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তের স্ত্রী রিনিকিরর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন পবন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর কাছে একাধিক দেশের পাসপোর্ট এবং বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার অভিযোগ আনেন। তবে এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করে পবন খেরার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন রিনিকি। গুয়াহাটি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ দায়ের হয় FIR।
Pahalgam: জঙ্গি হামলার এক বছর, ক্ষত সারিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পহেলগাম
যদিও তেলঙ্গানা হাইকোর্ট খেরা-কে এক সপ্তাহের জন্য ট্রানজিট অ্যান্টিসিপেটরি জামিন দেয়, যাতে তিনি অসম আদালতে গিয়ে জামিনের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু অসম সরকার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়।
সুপ্রিম কোর্ট ১৫ এপ্রিল সেই হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় এবং তেলঙ্গানা হাইকোর্টের এই মামলায় এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ফলে পবন খেরার (Pawan Khera) অন্তর্বর্তী সুরক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে খেরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন যাতে তাঁর আগাম জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং তিনি অসমের আদালতে যাওয়ার সময় পান।
কিন্তু আদালত সেই আবেদনও খারিজ করে দেয়। শুনানির সময়ে খেরার আইনজীবী তাঁর হয়ে প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি সন্ত্রাসবাদী যে এতটুকু সময়ও দেওয়া হবে না?’ তবে এই ঘটনার পরেও আদালত মেয়াদ বাড়াতে রাজি হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, খেরা চাইলে সরাসরি অসমের উপযুক্ত আদালতে গিয়ে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন।
তবে এখন প্রশ্ন উঠছে – অন্তর্বর্তী সুরক্ষা না থাকা এবং জামিনের মেয়াদ না বাড়ায় খেরার সামনে কার্যত সব পথ বন্ধ। তবে কি এবার গ্রেফতার হতে চলেছেন কংগ্রেস নেতা?

