পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা ইরান ইজরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের সরবরাহে ইতিমধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও সরকার বলছে যেটুকু গ্যাস দেশে এসে পৌঁছচ্ছে তার মধ্যে বেশিরভাগটাই গৃহস্থের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং যোগান অব্যাহত রাখতে বিকল্প হিসেবে পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাস (PNG) ব্যবহারে জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সরকারের লক্ষ্য, সরকারি দপ্তরগুলোতে ধীরে ধীরে এলপিজির পরিবর্তে PNG ব্যবহার বাড়ানো। এতে একদিকে বর্তমান জ্বালানি সঙ্কটের চাপ কমবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে আমদানি করা এলপিজির উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। এই পরিস্থিতিতে দেশের সব মন্ত্রক ও সরকারি দপ্তরকে তাদের অফিসের ক্যান্টিন ও প্যান্ট্রিতে PNG কানেকশন নেওয়ার জন্য জোর দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও সরকারি প্রতিষ্ঠান, আবাসন, ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন জায়গায় PNG ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। শহরভিত্তিক গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলিকেও তাদের নেটওয়ার্ক দ্রুত বাড়াতে সহায়তা করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত পিএনজি (PNG) সংযোগ দেওয়া যায়।
Manosi Sengupta: বিবাহ বিচ্ছেদের পর ভ্লগিংকে বিদায় অভিনেত্রীর, আচমকা কেন এমন সিদ্ধান্ত?
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কারণে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। হরমুজ পেরিয়ে কয়েকটি জ্বালানি ভর্তি জাহাজ দেশে এসে পৌঁছলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তাই দেশিয় রিফাইনারিগুলোতে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে এবং আমেরিকা, রাশিয়া ও জাপানের মতো বিকল্প উৎস থেকেও সরবরাহ আনার চেষ্টা চলছে।
এই অবস্থায় গৃহস্থালির এলপিজি (LPG) সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের উপর চাপ বেশি পড়ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে PNG-তে দ্রুত রূপান্তরের উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।
সরকার মনে করছে, PNG ব্যবহারের পরিমাণ বাড়লে গ্যাসের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সঙ্কটে রান্নার গ্যাসের ওপর প্রভাবও কম পড়বে।

