১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমন্ত্রণে ভারত সফরে এসেছিলেন ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই (Mini Iran in India)। সেই সফরের সময়ই তিনি কর্নাটকের চিকবল্লাপুর জেলার ছোট্ট গ্রাম আলিপুরে যান। ওই সফরের পর থেকেই গ্রামের পরিচয় বদলে যায়— ধীরে ধীরে আলিপুর পরিচিত হয়ে ওঠে ভারতের ‘Mini Iran in India’ নামে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইজ়রায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে এই গ্রামজুড়ে।
শোকে স্তব্ধ ‘Mini Iran in India’
খামেনেইয়ের মৃত্যুসংবাদ ছড়াতেই কার্যত থমকে যায় আলিপুরের জনজীবন। কোনও সরকারি নির্দেশ ছাড়াই গ্রামবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তিন দিনের জন্য দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসাও বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রামজুড়ে বহু বাড়িতে কালো পতাকা উড়তে দেখা যাচ্ছে। শিয়া অধ্যুষিত এই এলাকায় খামেনেই শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, বরং আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা,বন্ধ হরমুজ প্রণালী, চাপে ভারত
কেন ‘মিনি ইরান’?
দক্ষিণ ভারতের এই গ্রামের সঙ্গে ইরানের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বহু পুরনো। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাই শিয়া মুসলিম এবং তাঁদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও জীবনযাত্রায় ইরানি প্রভাব স্পষ্ট। ১৯৮১ সালে খামেনেইয়ের ঐতিহাসিক সফরের পর থেকেই আলিপুর আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পায়। গ্রামের প্রবীণদের স্মৃতিতে আজও জীবন্ত রয়েছে সেই সফর— যখন তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন এবং ধর্মীয় আলোচনা করেছিলেন।
শোকের সঙ্গে ক্ষোভ
গ্রামের রাস্তায় খামেনেইয়ের ছবি হাতে মৌন মিছিল করছেন হাজার হাজার মানুষ। শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও প্রকাশ পাচ্ছে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যে। তাঁদের দাবি, এই হামলা শুধু একজন নেতার মৃত্যু নয়, বিশ্ব শান্তির ওপরও আঘাত।
নিহত আয়াতোল্লা আলি খামেনেই, ধর্মীয় নেতা মৃত্যুর খবর স্বীকার ইরানের
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পরিস্থিতি শান্ত রাখতে চিকবল্লাপুর জেলা প্রশাসনের তরফে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বের মতে, শোকপালনের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলিপুরে এই গম্ভীর পরিবেশ বজায় থাকবে।

