Site icon Hindustan News Point

আরও শক্তি বাড়ছে ভারতের? ইন্দো-প্যাসিফিক সম্পর্ক নিয়ে বড় বার্তা দিলেন এস জয়শঙ্করের

S Jaishankar

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বার্তা দিল ভারত। বৈঠকের সূচনাতেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী (S Jaishankar) এস জয়শঙ্কর বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে শুধু ভৌগোলিক বা কৌশলগত ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বরং বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ধরে রাখতে হবে। সেই লক্ষ্যেই দরকার “বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ অংশীদারিত্ব”। এমন এক সময়ে এই বৈঠক হলো, যখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং সামুদ্রিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি। বৈঠকের নেতৃত্ব দেন (S Jaishankar) এস জয়শঙ্কর।

নিজের বক্তব্যে তিনি (S Jaishankar) বলেন, কোয়াডের মূল লক্ষ্য ইন্দো-প্যাসিফিককে মুক্ত, উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ রাখা। একই সঙ্গে তিনি সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা (Supply Chain Resilience), সংযোগ ব্যবস্থার বাধা, উৎপাদন ও প্রাকৃতিক সম্পদের কেন্দ্রীকরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ঘাটতির মতো বিষয়গুলিকেও সামনে আনেন। (S Jaishankar) তাঁর মতে, এই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় আরও বেশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। জয়শঙ্কর আরও বলেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক বিকল্প তৈরি করা এবং কৌশলগত আস্থা বৃদ্ধি করা এখন আবশ্যক। যদিও কোনও দেশের নাম তিনি সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে ইন্দো-প্যাসিফিকে চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপট এই আলোচনায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং বৈঠকে বলেন, কোয়াডকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সদস্য দেশগুলি এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ রাখতে চার দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো জরুরি। তিনি স্পষ্ট করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ভবিষ্যতের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার।

মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কোয়াডের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তাঁর মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা, নৌপথে স্বাধীন চলাচল (Freedom of Navigation), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতার মতো ক্ষেত্রে কোয়াড বড় ভূমিকা নিতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই জোট আরও সক্রিয় হবে।

এই বৈঠক ভারতের জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের উপস্থিতি ও নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে। দ্বিতীয়ত, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক রুট সুরক্ষিত থাকলে ভারতের রফতানি ও আঞ্চলিক অর্থনীতি আরও লাভবান হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কোয়াড এখন শুধু নিরাপত্তা জোট নয়, এটি ভবিষ্যতের অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও ভূরাজনীতির ভারসাম্য গড়ার অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে।

আচমকাই স্তব্ধ রোপওয়ে, গুলমার্গে পাহাড়ে ঝুলে ৩০০ পর্যটক! তুমুল আতঙ্ক, ত্রাতা সেনাবাহিনী


Exit mobile version