আম আদমি পার্টির বা AAP-এর ভেতরেই এবার ফাটল প্রকাশ্যে। দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল শুক্রবার রাঘব চাড্ডার দল ছাড়া নিয়ে মুখ খুললেন। সরাসরি তিনি রাঘবকে বিশ্বাসঘাতক তকম দেন। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, রাঘব চাড্ডার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান পাঞ্জাবের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। তাঁর দাবি, বিজেপি ফের পাঞ্জাবকে ঠকিয়েছে এবং সেই খেলায় কিছু নেতার ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। (Raghav Chadha)
কেজরিওয়াল বলেন, পঞ্জাবের মানুষ পরিবর্তনের আশায় AAP-কে ক্ষমতায় এনেছিল। কিন্তু এখন যেভাবে দলের কিছু নেতা বিজেপির প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন, তাতে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ‘দল পঞ্জাবের স্বার্থের সঙ্গে কোনও আপস করবে না।'(Raghav Chadha)
এদিকে আরেকটি বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এনেছে AAP-এর একাংশ। দলের এক নেতা দাবি করেছেন, রাঘব চাড্ডাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে দল সবরকম সুযোগ দিয়েছিল। খুব অল্প বয়সে তাঁকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরা হয়, গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়, এমনকি রাজ্যসভায় পাঠিয়েও তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ মজবুত করা হয়েছিল। রাজ্যসভায় পাঠানো থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সবই দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। অথচ শেষ পর্যন্ত তিনি বিজেপির ‘ঘনিষ্ঠ’ হয়ে পড়েছেন বলেই অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের জবাবে রাঘব চাড্ডার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে আপের এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব বিরোধীদের হাত আরও শক্ত করছে। বিশেষ করে ভগবান মানের নেতৃত্বাধীন পাঞ্জাব সরকারের উপরেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এমনিতে দিল্লি হারের পর AAP ব্যাকফুটে। এই পরিস্থিতি রাঘব চাড্ডার মতো অনেকের দল ছাড়া পাঞ্জাব নির্বাচনের আগে সমস্যায় ফেলল AAP-কে।(Raghav Chadha)
রাজনীতিতে মতভেদ নতুন নয়। তবে জনসমক্ষে এভাবে দলের নেতাদের একে অপরকে নিশানা করা আপের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই সামনে আনছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভোটের আগে এই দ্বন্দ্ব কতটা গভীর হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
আরও পড়ুন: Raghav Chadha: কেজরিওয়ালদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, AAP ছেড়ে BJP-তে রাঘব চাড্ডা

