শুক্রবার দুপুরে দিল্লির রাজনীতিতে বিরাট দলবদল হল। জল্পনা আগেই ছিল, গুঞ্জনও উঠছিল, সেইসব সত্যি করেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। আম আদমি পার্টির আরও ছয় নেতা পদ্মশিবিরে যোগ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই যদি আম আদমি পার্টির ১০ সাংসদের মধ্যে ৭ জনই বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে এনডিএ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আরও কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে রাজ্যসভায় (Raghav Chadha)। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে রাজ্যসভায় কোনও বিল পাস করাতে সুবিধে হতে পারে।
যার অর্থ আপের মোট ১০ জন রাজ্যসভার সাংসদের মধ্যে সাতজনই বিজেপিতে। ফলে দলত্যাগ বিরোধী আইনে পড়ে সাংসদ পদ খোয়ানোর কথা নয় তাঁদের।
দলীয় সূত্রে খবর, দল ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগে তিনজন রাজ্যসভার সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নিতে চলেছে AAP। সূত্রের খবর, রাজ্যসভার স্পিকারের কাছে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানাবে আপ। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হবে এই আইন?
ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিল অনুসারে, কোনও সাংসদ স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করলে বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিলে অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ মানে শুধু পদত্যাগই নয়, এর মধ্যে বিরোধী দলে যোগদান করা বা প্রকাশ্যে সমর্থন করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।
তবে, এই আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমও রয়েছে। যদি কোনও দলের নির্বাচিত সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ একযোগে দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন, তবে এটিকে ব্যক্তিগত দলত্যাগ হিসেবে গণ্য করা হয় না। ২০০৩ সালের ৯১ তম সংশোধনী অনুযায়ী, দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য দলে যোগ দিলে তা দলত্যাগ বলে গণ্য হবে না ।
আপের ৭ সাংসদের দলত্যাগে রাজ্যসভার অঙ্ক পুরো বদলে গেল। রাঘব চাড্ডার (Raghav Chadha) মতো বড় মুখের চলে যাওয়া শুধু রাজনৈতিক নয়, প্রতীকী দিক থেকেও আপের জন্য বড় ধাক্কা।
এরপরেই দলের প্রবীণ নেতা মনীশ সিসোদিয়া শনিবার গুজরাতের রাজকোটে প্রচার সেরে দিল্লিতে ফিরে সরাসরি দলের আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখানে দু’জনের মধ্যে প্রায় আধঘণ্টার বৈঠক হয়। দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, এই বৈঠকে দলে হঠাৎ ভাঙনের সম্ভাব্য প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে AAP-র ভিতরে অস্থিরতা বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আপ আঞ্চলিক দল নয়। জাতীয় দল। আপকে বিজেপির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে বা আপের আসল প্রতীক এবং নাম দাবি করতে হলে দলের সব স্তরের জনপ্রতিনিধিদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। যা এই মুহূর্তে রাঘবের হাতে নেই। সূত্রের খবর, সেই অঙ্কটাকেই কাজে লাগাতে চাইছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রাঘবদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে আবেদন করতে চলেছেন তাঁরা। এখন দেখার সাংসদ পদ বাতিল নাকি রাজ্যসভায় এনডিএ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।

