আপের অন্দরে বড়সড় রদবদল। রাজ্যসভায় উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে (Raghav Chadha)। তাঁর পরিবর্তে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হলো সাংসদ অশোক মিত্তলকে। এই পরিবর্তনের কথা রাজ্যসভা সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। আপের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলিতে চাড্ডার নীরবতা এবং অনুপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। ফলে এটি কি শুধুই সাংগঠনিক পদচ্যুতি? নাকি এর পিছনে রয়েছে বড়সড় কোনও কারণ।
রাঘব রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ বহু বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার হতেন। জনস্বার্থের তিনি বিষয়গুলো তুলে ধরতেন। সে বিমানবন্দরে ১০ টাকার চায়ের বিষয় হোক বা ডেলিভারি বয়দের সমস্যা। সব বিষয় নিয়েই আলোচনা করতেন তিনি। ইদানিং কিছুদিন ধরে দলের বেশকিছু বিষয় নিয়ে নীরব ছিলেন। তা নিয়ে কৌতুহল বেড়েছিল। তারপরই হঠাৎ দল তাঁকে ডেপুটি লিডারের পদ থেকে অপসারণ করল।
এমনকি সম্প্রতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাঁর অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে। দলীয় কার্যালয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সাংবাদিক বৈঠক কিংবা জনতার উদ্দেশে ‘জনসভা’—এইসব গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে দেখা যায়নি তাঁকে। বিশেষ করে যন্তরমন্তরে অনুষ্ঠিত জনসভায়, যেখানে কেজরিওয়াল বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন, সেখানেও চাড্ডার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শোনা যায়, দীর্ঘদিন আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর কোনওরকম যোগাযোগ নেই। এমনকী আবগারি দুর্নীতি মামলায় আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি রাঘব (Raghav Chadha)। সোশাল মিডিয়াতেও কোনওরকম পোস্ট করেননি। সামনে পাঞ্জাব ও গুজরাটের নির্বাচন, সেজন্য প্রস্তুত হচ্ছে আপ। সেই প্রস্তুতিতেও কোনওভাবে যুক্ত নন রাঘব।
সব মিলিয়ে, এই রদবদল দিল্লির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। আগামী দিনে দলীয় অবস্থান ও নেতৃত্বের কৌশলে এর কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

