Site icon Hindustan News Point

Rahul Gandhi: ‘ভারতমাতা বিক্রি করে দিলেন’, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ রাহুলের

rahul gandhi

আমেরিকার সঙ্গে ভারতের নতুন বাণিজ্য ও শুল্কচুক্তি নিয়ে বুধবার লোকসভায় কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, কৃষি ও দুগ্ধ শিল্পের মতো দেশের ‘সংবেদনশীল’ ক্ষেত্র আমেরিকান পণ্যের জন্য খুলে দিয়ে সরকার কার্যত দেশের স্বার্থকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

লোকসভায় দাঁড়িয়ে রাহুল (Rahul Gandhi) বলেন, “আপনারা ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিলেন। আপনাদের লজ্জা নেই?” তাঁর দাবি, এই চুক্তির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উপর। পাশাপাশি কৃষিনির্ভর বহু পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রাহুলের বক্তব্য, আগে আমেরিকার গড় শুল্ক ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। কিন্তু নতুন চুক্তির পর তা বেড়ে হয়েছে ১৮ শতাংশ। মাঝখানে তা আরও বেড়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। রাহুলের অভিযোগ, “কৃষকেরা এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দরজা খুলে দিলে তাঁরা আরও বড় সঙ্কটে পড়বেন।”কংগ্রেস সাংসদের আরও দাবি, এই চুক্তির ফলে আমেরিকা থেকে ভারতে আমদানির অঙ্ক ৪৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। তিনি বলেন, “এটা যুক্তিসঙ্গত নয়। কোনও প্রধানমন্ত্রী আগে এমন সিদ্ধান্ত নেননি।”

রাহুলের (Rahul Gandhi) অভিযোগ, চুক্তিতে ভারতের উপর দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। তাঁর দাবি, ভারতকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি ও প্রযুক্তিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, অথচ ওদের কোনও দায় নেই।”

রাহুলের বক্তব্যের সময়ে সংসদে হস্তক্ষেপ করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি রাহুলকে চুক্তি সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ পেশ করার দাবি জানান। পাল্টা কটাক্ষ করে রিজিজু বলেন, “ভারতের উন্নতি আপনাদের ভালো লাগে না। ২০১৪ পর্যন্ত কংগ্রেস দেশকে দুর্বল করেছে।” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তিনি ‘সবচেয়ে শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী’ বলেও উল্লেখ করেন।

এদিকে এই বিতর্কের মধ্যেই আমেরিকার তরফে প্রকাশিত একটি ‘ফ্যাক্টশিট’ সংশোধন করা হয়েছে। প্রথমে সেখানে উল্লেখ ছিল, ডালজাতীয় কিছু পণ্যের শুল্ক কমানো বা তুলে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। পরে সংশোধিত নথি থেকে ‘certain pulses’ কথাটি বাদ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, দেশের মোট অর্থনীতিতে কৃষিক্ষেত্রের অবদান প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী ভারতের কৃষিবাজারের পরিধি কয়েকশো বিলিয়ন ডলারের। ভবিষ্যতে এই বাজার আরও বড় হতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, কৃষিক্ষেত্র পুরোপুরি বিদেশি পণ্যের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল দাবি করেছেন, যেখানে ভারত স্বনির্ভর, সেই ক্ষেত্রগুলিকে চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার আশ্বাসও দিয়েছে কেন্দ্র।


Exit mobile version