Site icon Hindustan News Point

রাম মন্দিরে অনুদান দুর্নীতি ঘিরে তোলপাড়, উদ্ধার প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা

Ram Mandir Donation

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক আরও গভীর হল। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-র প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মোট ₹ ৭৯,৮৫,৮৯৩ নগদ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনার পরই শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন বলে ট্রাস্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত ট্রাস্টের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদও জানিয়েছে, তাদের সহ-সভাপতি চম্পত রাইয়ের পদত্যাগের বিষয়ে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাম শঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, অবিনাশ শুক্ল, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব, রামাশঙ্কর মিশ্র, মনীশ যাদব এবং করুণেশ পাণ্ডে। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুকল্প ও লাভকুশ মিশ্রের সঙ্গে অনিল মিশ্রের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। আবার রাম শঙ্কর যাদব ও মনীশ যাদবও আত্মীয়। (Ram Mandir Donation)

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, চুরি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অযোধ্যার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে আটজনকেই সোমবার পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ শীঘ্রই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করবে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা অনুদানের অর্থ কোথায় গিয়েছে, কারা জড়িত এবং আরও নগদ বা মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। (Ram Mandir Donation)

এই বিতর্কের সূত্রপাত ৭ জুন, যখন সমাজবাদী পার্টির নেতা তেজ নারায়ণ ‘পবন’ পাণ্ডে অভিযোগ করেন, রাম মন্দিরের অনুদান থেকে ৫ কোটি থেকে ৭.৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। এরপর ১৩ জুন ট্রাস্টের আবেদনের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশ সরকার সিট (SIT)গঠন করে। লখনউয়ের বিভাগীয় কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ, লখনউ রেঞ্জের আইজি কিরণ এস এবং অর্থ দফতরের বিশেষ সচিব নীল রতনের নেতৃত্বে গঠিত দল ১৫ থেকে ২০ জুন অযোধ্যায় তদন্ত চালায়। তদন্তে অনুদান সংগ্রহ, দানবাক্স, নগদ গণনা, সংরক্ষণ, হিসাবরক্ষণ, প্রবেশাধিকার ব্যবস্থা এবং CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী পরিচালনায় প্রাথমিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। (Ram Mandir Donation)

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানান, SIT র রিপোর্ট হাতে আসার পরই সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। দেওরিয়ার এক জনসভায় তিনি বলেন, “অযোধ্যা কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক। মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে সরকার তা বরদাস্ত করবে না।” একইসঙ্গে বিরোধীদেরও আক্রমণ করেন তিনি। (Ram Mandir Donation)

অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দাবি করেছেন, যদি মাত্র কয়েক সপ্তাহেই এত বিপুল অর্থ আত্মসাৎ হয়ে থাকে, তাহলে এতদিনে কত টাকা নয়ছয় হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ট্রাস্টের সদস্য বিশ্বপ্রসন্ন তীর্থ স্বামীজিও বলেন, অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। ১১ জুলাই ট্রাস্টের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠন করে। ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রাম মন্দিরে অনুদান হিসেবে ৮২.৭৮ কোটি টাকা জমা পড়েছে। দেশ-বিদেশের ভক্তরা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক এবং বিদেশি অনুদানের ক্ষেত্রে দিল্লির এসবিআই শাখার মাধ্যমে এই ট্রাস্টে অর্থ দান করতে পারেন। (Ram Mandir Donation)

আরও পড়ুন :- রাম মন্দিরে প্রণামীর টাকা গায়েব! তছরুপের অভিযোগের জেরে গ্রেফতার ৮


Exit mobile version