বর্তমানে লখনউতে (Sanitation Crisis In Lucknow) সাফাইকর্মীর তীব্র সঙ্কট চলছে। যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনা। দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। কিন্তু কেন এই সঙ্কট? মূলত সাফাইকর্মী কমে যাওয়ার কারণে গোটা লখনউ শহরজুড়ে এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের কারণে বহু সাফাই কর্মী নিজেদের রাজ্যে ফিরছেন। শুধু তাই নয়, SIR-ও এর মূল কারণ। লখনউ শহরের বেশিরভাগ সাফাইকর্মীই অসম এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছিলেন। আর এই দুই রাজ্যেই আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ফিরছেন সাফাইকর্মীরা।
আর এই পরিস্থিতি সামাল দিতে নাজেহাল অবস্থা লখনউ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (LMC)। পুরসভায় সাফাইকর্মী কম থাকায়, বাকি সাফাই কর্মীদের কাজের চাপ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ডবল শিফট করে ডিউটি করছেন কর্মীরা। কর্পোরেশনের তরফে কিছু এলাকায়, আবর্জনা তোলার জন্য দৈনিক ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা মজুরিতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করা হচ্ছে।
ভূতনাথ বাজার, ইন্দিরা নগর সহ বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনা জমায় ক্ষুব্ধ সেখানকার মানুষ। সঠিকভাবে কাজ না করায়, ধরে ধরে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে জরিমানা করছে লখনউ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন।
আলিগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, পুরসভা ও বেসরকারি দুই আবর্জনা সংগ্রহকারী সংস্থাই সাময়িকভাবে তাদের কাজকর্ম বন্ধ রেখেছে। সুরজ কুমার জানান, এক সাফাইকর্মী তাঁকে জানিয়েছেন, তিনি ভোট দিতে অসমে যাচ্ছেন এবং পরে ফিরবেন। ফলে, বাসিন্দাদের নিজেদেরই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিজেদেরকেই নিতে হচ্ছে।
সুরজ নামের এক হোটেল মালিকের কথায়, তার হোটেলে আবর্জনা সংগ্রহ না করায়, অনেকটাই অবর্জনা জমে গিয়েছে। কবে যে ফের সাফাইয়ের কাজ শুরু হবে, তা ভেবেই উঠতে পারছেন না ওই হোটেল মালিক।
সাধারণত, লখনউ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (Sanitation Crisis In Lucknow) অধীনে পরিচ্ছন্নতার কাজে প্রায় ১,৪৩০টি সাফাই অভিযানের গাড়ি ও ৩,৫০০ জন সাফাইকর্মী প্রতিদিন নিয়োজিত থাকেন। নির্বাচনের সময় প্রায় ১০,০০০ কর্মী কাজ ছেড়ে দিয়েছেন, যার ফলে একাধিক এলাকায় সাফাই অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এখন কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? সেই আশায় দিন গুনছেন লখনউবাসী।

