Site icon Hindustan News Point

বুজে আসছে ঐতিহ্যের সরস্বতী নদী, ধর্মচর্চাই কাল?

Saraswati River

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মানা গ্রামে অবস্থিত পবিত্র সরস্বতী নদীকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বহু ভক্ত ও পর্যটকের আনাগোনায় সরস্বতী নদীতে জমে রয়েছে প্লাস্টিক, প্রসাদের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যে নদীকে দেবী রূপে পূজা করা হয়, সেই নদীকেই কীভাবে মানুষ নিজের হাতে দূষিত করছে? (Saraswati River)

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এক মহিলা উঁচু স্থান থেকে নদীর জলে প্রসাদ ফেলছেন। তবে তার চেয়েও বেশি নজর কাড়ে নদীর উপরিভাগে ভাসতে থাকা আবর্জনার স্তূপ। অভিযোগ, বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও তীর্থযাত্রী সেখানে গিয়ে প্লাস্টিক, খাবারের মোড়ক, প্রসাদের প্যাকেট-সহ নানা বর্জ্য ফেলে রেখে আসছেন। ফলে পবিত্র নদীর দৃশ্যমান অংশের পরিবেশ ক্রমশ নষ্ট হচ্ছে। (Saraswati River)

ভিডিওটি সামনে আসতেই একাধিক নেটিজেন ক্ষোভ উগরে দেন। একজন ব্যবহারকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ট্যাগ করে লেখেন, “আস্থা যেমন বজায় রাখতে হবে, তেমনই দূষণও রুখতে হবে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ প্রয়োজন।” অপর এক ব্যবহারকারী অপূর্ব মন্তব্য করেন, “মানুষ পাহাড়কে দেবতা বলে, গঙ্গাকে মা বলে সম্মান জানায়। কিন্তু সেই মানুষই কেন নিজের দেবদেবীর স্থান নোংরা করছে? কেদারনাথের মতো জায়গায় আরও কঠোর নিয়ম থাকা উচিত।” আবার ‘ব্ল্যাক আর্মার’ নামে এক নেটিজেন সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “এটাই কি হিন্দু সংস্কৃতি?” যদিও অনেকেই পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, কিছু মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য গোটা ধর্ম বা সংস্কৃতিকে দায়ী করা উচিত নয়। (Saraswati River)

ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে দায়িত্বশীল পর্যটন ও নাগরিক সচেতনতার বিষয়টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ের মতো পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পায়নি। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য দুটোই চাপে পড়ছে। (Saraswati River)

চামোলি জেলার মানা গ্রাম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। বদ্রীনাথ ধাম থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম দীর্ঘদিন ‘ভারতের শেষ গ্রাম’ নামে পরিচিত ছিল। তবে সীমান্ত এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় এখন একে ‘ভারতের প্রথম গ্রাম’ বলা হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত, সাধু, পর্যটক এবং ট্রেকার এখানে আসেন। গ্রামটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল সরস্বতী নদীর দৃশ্যমান উৎস।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, সরস্বতী শুধুমাত্র একটি নদী নয়, জ্ঞান, বিদ্যা ও সংস্কৃতির দেবী হিসেবেও পূজিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মানা গ্রামের বাইরে নদীটির অধিকাংশ প্রবাহ ভূগর্ভস্থ অবস্থায় চলে যায়। পরে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে ত্রিবেণী সঙ্গমে গঙ্গা ও যমুনার সঙ্গে অদৃশ্যভাবে মিলিত হয় সরস্বতী। এই কারণেই মানা গ্রামকে সরস্বতী নদীকে প্রত্যক্ষ করার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ স্থান বলে মনে করা হয়। (Saraswati River)

মানা গ্রামের বিখ্যাত ব্যাস গুহার নিকটবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থেকে গর্জনধ্বনি তুলে বেরিয়ে আসে সরস্বতী নদীর সাদা ফেনিল স্রোত। এরপর অল্প দূরেই কেশব প্রয়াগে গিয়ে অলকানন্দা নদীর সঙ্গে তার মিলন ঘটে। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এই স্থানটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

তবে সাম্প্রতিক ভিডিওটি দেখিয়ে দিয়েছে, পবিত্র স্থানকে ঘিরে মানুষের আবেগ যতই প্রবল হোক না কেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধের অভাব থাকলে সেই ঐতিহ্য বিপদের মুখে পড়তে পারে। তাই বহু নেটিজেনের দাবি, মানা গ্রাম ও সরস্বতী নদী এলাকায় প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, আবর্জনা ফেলার বিরুদ্ধে কড়া জরিমানা এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন পবিত্র নদীর মর্যাদা রক্ষা হবে, তেমনই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকবে হিমালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। (Saraswati River)

ময়ূরের পালকেই বদলাতে পারে আপনার ভাগ্যের চাকা, জেনে নিন সঠিক নিয়ম


Exit mobile version