দীর্ঘ টানাপোড়েনের ইতি৷ কর্নাটকে। কংগ্রেসে হয়ে গেল বড়সড় পালাবদল৷ সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah) জানিয়ে দিলেন, কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের নির্দেশে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন৷ লোকভবনে গিয়ে জমা দিয়ে এসেছেন তাঁর ইস্তফাপত্র৷ এরপরেই সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন, কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের তরফে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু, সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি৷ বদলে আরও দু’বছর বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কর্নাটকের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন।
প্রসঙ্গত, শিবকুমারের নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে চলেছেন সিদ্দারামাইয়ার ছেলে। সঙ্গে থাকবেন দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, এদিন সকালে বেঙ্গালুরুতে মন্ত্রিসভার সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতরাশ বৈঠক করেন সিদ্দারামাইয়া। সেই বৈঠকের পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফার ঘোষণা করেন। পরে রাজভবনে গিয়ে গভর্নরের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। ইস্তফার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিদ্দারামাইয়া জানান, কংগ্রেস হাইকম্যান্ড তাঁকে রাজ্যসভার আসনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি কর্নাটকের রাজনীতিতেই থাকব।” তিনি আরও বলেন, রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন এবং কর্নাটকের স্বার্থ রক্ষায় লড়াই করবেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেসের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছিল। দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর অবশেষে ক্ষমতা হস্তান্তরের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতের নির্বাচনের আগে দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গোটা প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে বলেই দাবি করেছে কংগ্রেস।
পদত্যাগের ঘোষণার সময় সত্তরোর্ধ্ব এই নেতাকে বেশ আবেগপ্রবণ দেখাচ্ছিল। নিজের রাজনৈতিক যাত্রার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, কখনওই কল্পনা করেননি যে একদিন তিনি রাজ্যের নেতৃত্বের আসনে বসবেন। তিনি তাঁরই দলের আরেক প্রবীণ নেতা ডিকে শিবকুমারের জন্য রাজ্যের শীর্ষ পদটি ছেড়ে দিলেন।

