Site icon Hindustan News Point

কেতন খুনে সোনম রঘুবংশীর পথ অনুসরণ সিয়ার, ব্রাউজিং হিস্ট্রি দেখে চোখ কপালে তদন্তকারীদের

Ketan Agarwal Murder Planning

মেঘালয়ের রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশ জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল খুনের ঘটনা। তদন্তে নেমে পুনে পুলিশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়াল শুধুমাত্র পরিকল্পিতভাবেই খুন করেননি, বরং রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার নানা খবর পড়ে সোনম রঘুবংশীর ভুলত্রুটি থেকেও শিক্ষা নিয়েছিলেন। সেই কারণেই আরও নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা, অ্যালিবাই তৈরি এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। (Ketan Agarwal Murder Planning)

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে বিয়ে করতে চাইছিলেন না তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়াল। কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক চাপ, দুই পরিবারের মধ্যে আর্থিক ও সামাজিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা জটিলতার কারণে তিনি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার অন্য কোনও পথ খুঁজে পাননি বলেই তদন্তকারীদের অনুমান। সেই পরিস্থিতিতেই প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। (Ketan Agarwal Murder Planning)

তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনাস্থল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল মহারাষ্ট্রের লোহাগড় দুর্গের ট্রেকিং রুট। পুলিশের বক্তব্য, যেখানে কেতনের মৃত্যু হয়েছে, সেই জায়গাটি অতটা বিপজ্জনক নয় যে সহজেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রথম থেকেই তাই মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। কেতনের পরিবারের সদস্যেরাও দুর্ঘটনার তত্ত্ব মানতে রাজি হননি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং একাধিক অ্যালিবাই খতিয়ে দেখার পর ধীরে ধীরে গোটা ষড়যন্ত্রের জাল খুলতে শুরু করে। (Ketan Agarwal Murder Planning)

পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী কেতনকে একা সিয়া ধাক্কা দেননি। বরং সিয়া ও চেতন দু’জনে মিলে তাঁকে খাদে ফেলে দেন। কারণ, একা সিয়ার পক্ষে কেতনকে নিশ্চিতভাবে গভীর খাদে ঠেলে ফেলা সম্ভব নাও হতে পারত বলে আগেই হিসেব কষেছিলেন তাঁরা।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, সিয়ার মোবাইল ফোনের ব্রাউজিং হিস্ট্রি খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে, তিনি রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন পড়েছিলেন। পাশাপাশি পুলিশি হেফাজতে মহিলাদের মারধর করা হয় কি না, মহিলা বন্দিদের অধিকার কী—এসব বিষয়েও ইন্টারনেটে খোঁজ করেছিলেন। গোয়াল পরিবারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া আরও একটি মোবাইল ফোন ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই ফোন থেকেও পরিকল্পনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে আশা পুলিশের। (Ketan Agarwal Murder Planning)

বিয়ের নামে ছক? সিয়ার স্ন্যাপচ্যাট চ্যাট ঘিরে কেতন হত্যা তদন্তে নতুন তথ্য

তদন্তে যুক্ত এক আধিকারিকের দাবি, এটি কোনও পেশাদার অপরাধীর কাজ নয়, বরং ‘হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া অপরাধ’। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক অবস্থার পরিবর্তন, পারিবারিক চাপ এবং একাধিক সামাজিক কারণ মিলিয়েই সিয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে একবার খুনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দু’জনেই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় প্রমাণ নষ্ট করা এবং পুলিশের নজর এড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। (Ketan Agarwal Murder Planning)

পুলিশের আরও দাবি, বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত নিজেদের কাজের জন্য অনুশোচনার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। যদিও তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা, দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর বাস্তব পরিস্থিতি তাঁদের উপলব্ধি হতে পারে।

অন্যদিকে, রাজা রঘুবংশীর মা উমা রঘুবংশী বলেছেন, কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড তাঁর ছেলের মৃত্যুর স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তাঁর অভিযোগ, দুই মামলার অভিযুক্তদের আচরণে অনুশোচনার কোনও ছাপ নেই। একই সঙ্গে তাঁর আশঙ্কা, রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশী জামিনে মুক্ত থাকায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্তরা আরও সাহস পেতে পারেন। বর্তমানে শিলংয়ে রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। (Ketan Agarwal Murder Planning)

আরও পড়ুন :- প্রেমিকার ঘরে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীকে খুন! পরে নেপাল পাড়ি, অবশেষে গ্রেফতার অভিযুক্ত


Exit mobile version