ক্রিকেট এবং উপমহাদেশের রাজনীতি কোনও কোনও সময়ে একই বিন্দুতে এসে মিশে যায়। এক পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে ঘিরে শুরু হয়েছে তুলকালাম। সানরাইজার্স লিডস দ্য হান্ড্রেড-র নিলামে আবরার আহমেদকে কিনেছে। সানরাইজার্স লিডস (Sunil Gavaskar) আবরারকে তাদের দলে ২ কোটি টাকারও বেশি দিয়ে অর্থাৎ মোটা অঙ্কের বিনিময়ে কিনে নিয়েছে। আসন্ন হান্ড্রেড মরশুমের জন্য আবরারকে কিনে নেওয়ার জন্য ফ্যানরা দলের মালিক কাব্য মারানের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন৷ ফলে পাকিস্তানি লেগ-স্পিনার আবরার আহমেদকে আকাশচুম্বী মূল্যে কিনে এখন টালমাটাল অবস্থা সানরাইজার্স লিডসের।
আর নতুন করে এই বিতর্কের পালে হাওয়া দিলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কর (Sunil Gavaskar)। পাকিস্তানী ক্রিকেটারকে কোটি কোটি টাকায় কেনায় সানরাইজার্স লিডসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। এই চুক্তি হওয়ার পরেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, একজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে দেওয়া পারিশ্রমিকের একটি নির্দিষ্ট অংশ কর হিসেবে তাদের সরকারের তহবিলে জমা হয়। আর সেই অর্থ পরোক্ষভাবে ব্যয় হতে পারে সমরাস্ত্র কেনায়, যা শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের দেওয়া পারিশ্রমিক শেষ পর্যন্ত আয়করের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারের কাছে পৌঁছয়। তাঁর মতে, সেই টাকা দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র কেনা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অর্থ প্রদানকারী কোনও ভারতীয় সংস্থা হোক বা কোনো বিদেশী সহযোগী প্রতিষ্ঠান, এই যুক্তি সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
গাভাস্কর লিখেছেন, “‘দ্য হান্ড্রেড’-এ একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ভারতীয় মালিক কর্তৃক একজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া নিয়ে যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাই হামলার পর থেকেই ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা আইপিএলের জন্য পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের উপেক্ষাই করে আসছেন।”
আর্থিক সংযোগটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা তিনি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “দেরিতে হলেও এই উপলব্ধি হচ্ছে যে, একজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে যে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, সেই খেলোয়াড় তাঁর সরকারকে আয়কর দেন, যা দিয়ে সরকার অস্ত্রশস্ত্র কেনে এবং যা পরোক্ষভাবে ভারতীয় সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর কারণ হয়—এই উপলব্ধির কারণেই ভারতীয় সংস্থাগুলো পাকিস্তানি শিল্পী ও ক্রীড়াবিদদের নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা থেকেও বিরত থাকছে।”
তিনি লিখেছেন, “অর্থ প্রদানকারী সংস্থাটি ভারতীয় হোক বা তার কোনও বিদেশী সহযোগী প্রতিষ্ঠান হোক, যদি মালিক ভারতীয় হন, তাহলে তিনি ভারতীয় হতাহতের ঘটনায় অবদান রাখছেন। বিষয়টা এতটাই সহজ।”শেষে তিনি একটাই প্রশ্ন তুলেছেন, একটি টুর্নামেন্ট জেতা কি ভারতীয়দের জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান?











