ভোটের আগে বিভিন্ন রাজ্যে ‘খয়রাতি’ বা বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India on Freebies)। তামিলনাড়ু পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কর্পোরেশনের একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত প্রশ্ন তোলেন, এইভাবে নাগরিকদের হাতে বিনামূল্যে সুবিধা তুলে দিয়ে দেশে কেমন সংস্কৃতি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, উন্নয়নকে অগ্রাধিকার না দিয়ে এ ধরনের নীতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
মামলাটি মূলত তামিলনাড়ু সরকারের বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রকল্পকে ঘিরে। সেখানে উপভোক্তার আর্থিক অবস্থার পার্থক্য না করেই ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে, যার সুবিধা পাচ্ছেন প্রায় দুই কোটিরও বেশি মানুষ। আদালতের মতে, যাদের বিল দেওয়ার সামর্থ্য নেই তাদের সাহায্য করা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সক্ষম ও অসক্ষমের মধ্যে পার্থক্য না করে এমন সুবিধা দেওয়া কি একপ্রকার তোষণনীতি নয়—তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বেঞ্চ।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে। তবুও নির্বাচনের আগে খাবার, নগদ অর্থ বা অন্যান্য সুবিধা বিলি করা হচ্ছে, যা অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা রাস্তাঘাট উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় কমিয়ে দেয়।’ তিনি মন্তব্য করেন, ‘যদি কোনও রাজ্যের উদ্বৃত্ত অর্থ থাকে, তবে তা জনকল্যাণমূলক স্থায়ী উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত।’
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে সিলমোহর, নবান্ন থেকে WBCS আধিকারিকদের পদোন্নতির বিজ্ঞপ্তি
সম্প্রতি ভোটমুখী তামিলনাড়ুতে মহিলাদের ভাতা প্রকল্পে হঠাৎ করে বেশি টাকা জমা পড়া নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও আদালত সরাসরি সেই বিষয়ে মন্তব্য করেনি, তবে বিনামূল্যে পরিষেবা নিয়ে সামগ্রিক নীতির পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে তড়িঘড়ি প্রকল্প ঘোষণা করা হলে তা জনমানসে ভুল বার্তা দেয় এবং কর্মসংস্কৃতির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রাজনৈতিক দল ও নীতিনির্ধারকদের ভারসাম্য বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সামাজিক সহায়তার মধ্যে সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।

