পথকুকুরের দৌরাত্ম্য ও কুকুরের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এ বার চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট (Street Dog)। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে কার্যত তুলোধোনা করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল— পথকুকুরের কামড়ে যদি কোনও মানুষ, বিশেষ করে শিশু বা প্রবীণের মৃত্যু হয়, তা হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকেই মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, এই সমস্যার জন্য সরকারগুলিই মূলত দায়ী, কারণ তারা এবিসি (অ্যানিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল) রুলস কার্যকর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চের মন্তব্য, “কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এই ইস্যুতে কিছুই করছে না। সংসদ বহু বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে ভাবলেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।” আদালত জানায়, ভবিষ্যতে কুকুরের কামড়ে প্রাণহানির প্রতিটি ঘটনায় বড়সড় আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাপানো হবে সরকারের উপর।
শুধু সরকার নয়, তথাকথিত কুকুরপ্রেমীদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শুনানিতে বিচারপতি বিক্রম নাথ স্পষ্ট বলেন, “পথকুকুর কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। যারা রাস্তায় কুকুর খাওয়াচ্ছেন, তাঁদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। কুকুরকে ভালবাসলে বাড়িতে রাখুন। কেন তারা রাস্তায় মানুষকে কামড়াবে বা ভয় দেখাবে?” আদালত জানায়, কুকুরের কামড়ের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব আজীবন থেকে যায়।
এর আগে ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট স্কুল, হাসপাতাল, আদালত, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন-সহ গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থল থেকে পথকুকুর সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও পরে ব্যাখ্যা করে বলা হয়, সর্বত্র নয়— শুধুমাত্র সংবেদনশীল এলাকাতেই এই নির্দেশ প্রযোজ্য। তবুও আদালতের মতে, এই নির্দেশ নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, পথকুকুর সমস্যা নিয়ে এ বার কড়া অবস্থান নিল শীর্ষ আদালত। স্পষ্ট বার্তা— মানুষের জীবন আগে, গাফিলতির আর কোনও জায়গা নেই।

