মহারাষ্ট্রের নাসিকে কর্পোরেট জেহাদ (TCS Nashik)। TCS বা Tata Consultancy Services-এর নাসিকের BPO ইউনিটে মহিলা কর্মীদের যৌন হেনস্থা এবং ধর্মান্তকরণের জন্য চাপ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনই অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফআইআর করেছেন ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি টিসিএস-এর মহিলা কর্মীরা। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তাঁদের উপর নির্যাতন চলেছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় ওই BPO-র বেশ কয়েকজন টিম লিডের পাশাপাশি অভিযোগের আঙুল উঠেছে HR বিভাগের ম্যানেজার, নিদা খানের বিরুদ্ধেও। নির্যাতিতারা তাঁর বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছেন। খবর জানাজানির পরই এই HR বেশকিছুদিন ধরে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। শুক্রবার পুলিশ গ্রেফতার করে তাঁকে। অভিযোগ, এই নিদা খানই নাকি TCS-এর অন্দরে যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তকরণ চক্রের মাস্টারমাইন্ড। অভিযোগ, কাজের জায়গায় যৌন হেনস্থা প্রতিরোধের নীতি (POSH) কার্যকর করা এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল নিদার কাঁধে। কিন্তু কোনও ঘটনা ঘটলে তাঁকে জানানো হলেও তিনি কোনও ব্যবস্থা নিতেন না। উল্টে মুখ বন্ধ রাখার জন্য তাঁদের চাপ দিতেন।
অভিযোগে ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে টিসিএসের বিভিন্ন পদে থাকা আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং অশ্বিন চাইনানিকে। এই নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। এই ঘটনায় HR সহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী গিরিশ মহাজনের অভিযোগ, ‘কর্মীদের জোর করে নমাজ পড়ানোর সঙ্গে গো মাংস খাওয়ানো হয় এবং তাদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও করা হয়।’ তিনি আরও জানান, এইটা এমনই একটি চক্র, যেখানে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েদের প্রলুব্ধ করে এবং পরে তাদের ছবি ও ভিডিয়ো দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হয়।”
TCS-এর তরফে রবিবার জানানো হয়েছে, যেকোনও ধরনের হয়রানি ও জবরদস্তির প্রতি তাদের একটি দীর্ঘস্থায়ী জিরো-টলারেন্স নীতি রয়েছে। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, তাদের নাসিকের (TCS Nashik) ইউনিটে যৌন হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

