উত্তরপ্রদেশ জুড়ে (UP Storm) ভয়াবহ ঝড়-বৃষ্টি ও ধূলিঝড়ের তাণ্ডবে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে একাধিক জেলা। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রবল ঝড়, বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টি এবং গাছ ও দেওয়াল ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৯৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ভদোহী এবং প্রয়াগরাজ জেলায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে।
বুধবার সন্ধ্যার পর আচমকাই কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। (UP Storm) তারপর শুরু হয় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড়। কোথাও ধূলিঝড়, কোথাও বজ্রবিদ্যুৎসহ অতি ভারী বৃষ্টি, আবার কোথাও শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে উপড়ে পড়ে শত শত গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি এবং কাঁচাবাড়ি। বহু জায়গায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
(UP Storm) প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ভদোহীতে। প্রয়াগরাজে মৃত ১৭। মির্জাপুরে ১৫, ফতেহপুরে ১০, উন্নাও ও বদায়ুঁতে ৬ জন করে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতাপগড় ও বরেলিতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। উন্নাও ও বাদায়ুঁতে ছয়জন করে মারা গেছেন এছাড়া সীতাপুর, রায়বরেলি, চন্দৌলি, কানপুর দেহাত, হারদৌই এবং সম্ভলে দু’জন করে মারা গিয়েছেন। কৌশাম্বী, শাহজাহানপুর, সোনভদ্র ও লাখিমপুরে একজন করে মৃত্যুর খবর মিলেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে প্রয়াগরাজে। হান্ডিয়া, ফুলপুর, সোরাও, মেজা ও সদর এলাকায় একাধিক মানুষ ঝড়ের কবলে পড়ে মারা যান। বহু কাঁচাবাড়ি মাটিতে মিশে গিয়েছে। গবাদি পশুরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত কৃষকদের।
ভদোহীতে ঝড়ের দাপটে রাস্তা জুড়ে উপড়ে পড়ে বিশাল গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। (UP Storm) যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজে ব্যাপক সমস্যা হয়। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বহু গ্রামে এখনও পৌঁছতে পারেনি উদ্ধারকারী দল।
বদায়ুঁতে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। সিদ্ধপুর কাইথোলি গ্রামে ঝড়ের সময় একটি কাঁচা ঘরের দেওয়াল ভেঙে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় দুই নাবালিকা মেয়ে মৌসমী (১০) এবং রজনী (৯)-র। আহত হন আরও কয়েকজন মহিলা। অন্যদিকে, ইউক্যালিপটাস গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় এক ট্রাকচালকের (যোগেশ ৩২) ।
বরেলিতে ঝড়ের ভয়াবহতা ছিল চোখে পড়ার মতো। (UP Storm) প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় টিনের একটি ছাউনি-সহ এক ব্যক্তিকে প্রায় ৪৫ ফুট উঁচুতে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে ১০০ মিটার দূরে ছুড়ে ফেলে দেয় ঝড়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেই ঘটনার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
রায়বরেলিতে ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সেখানে অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সারনিত কৌর জানিয়েছেন, ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য চলছে, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিদুৎ বিভাগকে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি সমস্ত জেলা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিপূরণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিমা সংস্থাগুলির পাশাপাশি রাজস্ব ও কৃষি বিভাগকে ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা চালিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এছাড়াও উদ্ধারকাজে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে আগামী কয়েকদিনও উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। (UP Storm) ফলে নতুন করে বিপদের আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বহু এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, চলছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। ফলে আতঙ্ক এখনও কাটেনি বিপর্যস্ত উত্তরপ্রদেশে। এক রাতের ভয়াল ঝড় যেন মুহূর্তে বদলে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশের হাজার হাজার মানুষের জীবন।
ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ডিজেল লুট, চাঞ্চল্য মধ্যপ্রদেশে: UP Storm: ঝড়ের তাণ্ডবে মৃত্যুপুরী উত্তরপ্রদেশ, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৯৬
