কেরলে নতুন অধ্যায় শুরু হল কংগ্রেসের হাত ধরে। সোমবার তিরুঅনন্তপুরমের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে শপথ নিলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ভি ডি সতীশন। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ শুরু হয় এই অনুষ্ঠান, যেখানে সতীশনের সঙ্গে একসঙ্গে শপথ নেন তাঁর ২০ সদস্যের মন্ত্রিসভার সদস্যরা। (Kerala CM)
ইউডিএফ জোটের বিপুল জয়ের পর কেরলে দশ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের ১১ জন, আইইউএমএল-এর পাঁচজন-সহ অন্যান্য শরিক দলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন রমেশ চেন্নিথলা, কে মুরলীধরন, কেপিসিসি প্রধান সানি জোসেফ, আইইউএমএল নেতা পি কে কুনহালিকুট্টি, পি কে বশির, এন সামসুদ্দিন, কে এম শাজি, ভি ই আব্দুল গফুর। এছাড়া মনস জোসেফ, শিবু বেবি জন, অনূপ জেকব, সি পি জন, এ পি অনিল কুমার, টি সিদ্দিক, পি সি বিষ্ণুনাথ, রোজি এম জন, বিন্দু কৃষ্ণা, এম লিজু, কে এ থুলাসি এবং ও জে জানিশও শপথ নিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় ১৪ জন নতুন মন্ত্রী এবং দুই মহিলা মন্ত্রী রয়েছেন। (Kerala CM)
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী, ওয়ানাডের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডি, কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার-সহ শীর্ষ কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও যোগ দেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন প্রশাসনিক কাজ ও নিরাপত্তার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। (Kerala CM)
শপথ নেওয়ার পরই ভিডি সতীশন বলেন, “কেরলের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আমরা স্বচ্ছ প্রশাসন, উন্নয়ন এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করব।” একই সঙ্গে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই হবে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে সতীশন যেভাবে গত কয়েক বছরে এলডিএফ সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ শানিয়েছিলেন, তাতেই কংগ্রেসের সংগঠন নতুন করে চাঙ্গা হয়। নির্বাচনী প্রচারেও দুর্নীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইস্যুকে সামনে এনে সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয় ইউডিএফ। (Kerala CM)
কেরলের রাজনৈতিক সমীকরণে এই পরিবর্তনের পর জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন বার্তা গিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে কংগ্রেসের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে ভিডি সতীশনের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
“আমি দেবদূত নই, সাধারণ মানুষ”, মুখ্যমন্ত্রী হয়েই আবেগঘন বার্তা বিজয়ের

