সাধারণত আদালতে বিচারকের মুখ থেকে শোনা যায়, “অর্ডার! অর্ডার!” কিন্তু শুক্রবার সকালে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী জেলা আদালতে দেখা গেল একেবারে সিনেমাকেও হার মানানো দৃশ্য। (Varanasi Court Drama) বিচারক তখন ছুটিতে, আর সেই সুযোগেই এক মহিলা সোজা চড়ে বসলেন বিচারকের চেয়ারে! তারপর ঘোষণা করলেন, “আজ আমিই ডিস্ট্রিক্ট জজ!”
শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ঘটনাটি বাস্তব। আর তার জেরেই এখন দেশজুড়ে ভাইরাল বারাণসী জেলা আদালতের একটি ভিডিয়ো।(Varanasi Court Drama) শুক্রবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ আদালত চত্বরে প্রবেশ করেন মধ্যবয়সি ওই মহিলা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে তিনি আদালতের কর্মীদের কাছে জানতে চান বিচারক কখন আসবেন। কিন্তু উত্তর পাওয়ার পর যা ঘটল, তার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না।
কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তিনি সোজা বিচারকের মঞ্চে উঠে পড়েন এবং জেলা বিচারকের নির্দিষ্ট চেয়ারে বসে পড়েন। এরপর শুরু হয় তাঁর ‘বিচারসভা’! চেয়ারে বসেই তিনি নাকি টেবিলে হাত ঠুকে বলতে শুরু করেন, “অর্ডার, অর্ডার! সাক্ষী কোথায়? প্রমাণ কোথায়? আজ আমিই ডিস্ট্রিক্ট জজ!”
A bizarre incident at a court complex in Varanasi triggered security concerns after a woman allegedly entered a district judge’s courtroom, sat on the judge’s chair, and declared herself the presiding judge.
— Hate Detector 🔍 (@HateDetectors) June 12, 2026
According to reports, the woman, identified as Vandana Gupta (50),… pic.twitter.com/BQny7G7KSQ
আদালত কক্ষে উপস্থিত আইনজীবী, কর্মী এবং মামলাকারীরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতেই পারেননি। কেউ ভেবেছিলেন হয়তো কোনও নাটকের মহড়া চলছে। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ঘটনাটি মোটেও অভিনয় নয়।
(Varanasi Court Drama) প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মহিলা শুধু বিচারকের আসনে বসেই থেমে থাকেননি। তিনি বিচারকের টেবিলে থাকা বিভিন্ন মামলার নথিপত্রও উল্টেপাল্টে দেখতে শুরু করেন। ফলে আদালত কক্ষে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আদালতের কর্মীরা তাঁকে বারবার আসন ছেড়ে নামার অনুরোধ করেন। কয়েকজন আইনজীবীও বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি কোনও কথাই শুনতে রাজি হননি। বরং আরও জোরে নিজের ‘আদালত পরিচালনা’ চালিয়ে যেতে থাকেন।
আরও পড়ুন – ‘বিশ্বাসঘাতকদের জবাব দেবে মানুষ’, TMC ছাড়া সাংসদদের তোপ হুমায়ুনের
ক্রমশ পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম কার্যত থমকে যায়। (Varanasi Court Drama) প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে এই অস্বাভাবিক নাটকীয়তা। শেষ পর্যন্ত আদালতের একটি অংশ খালি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু হয়। জানা গিয়েছে, সেদিন অতিরিক্ত জেলা বিচারক যজুভেন্দ্র বিক্রম সিং ছুটিতে ছিলেন। এরপর খবর দেওয়া হয় ক্যান্ট থানার পুলিশকে। মহিলা পুলিশকর্মীদের নিয়ে একটি দল আদালতে পৌঁছে ওই মহিলাকে বিচারকের আসন থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও পরে জানায়, তাঁর আচরণে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার ইঙ্গিত মিলেছে। প্রাথমিক তদন্তের পর তাঁকে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তবে ঘটনার (Varanasi Court Drama) পরেই বড় প্রশ্ন উঠেছে আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। আদালতের মতো সংরক্ষিত এলাকায় একজন ব্যক্তি কীভাবে এত সহজে বিচারকের চেয়ার পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন? কেন তাঁকে আগেই আটকানো হল না?
Varanasi: Woman sat in district judge’s chair, banged gavel, shouted “Order! Order!” and declared “Today I’m the judge, present evidence.” Police detained her. pic.twitter.com/fcoZVpmMwL
— Ghar Ke Kalesh (@gharkekalesh) June 12, 2026
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। আদালতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কাছেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় আইনজীবী। তাঁদের অভিযোগ, ওই মহিলা নাকি এর আগেও একবার একই ধরনের কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। যদিও সেই দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া (Varanasi Court Drama) ভিডিয়ো দেখে অনেকেই মজা করে লিখছেন, “জজ সাহেব ছুটিতে, তাই বিকল্প ব্যবস্থা নিজেই করে ফেললেন!” আবার কেউ বলছেন, “ভারতের সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী চাকরিপ্রার্থীকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।”
তবে হাস্যরসের আড়ালে বিষয়টি যে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগের, তা মানছেন আদালত কর্তৃপক্ষও। কারণ বিচারকের আসন শুধু একটি চেয়ার নয়, বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক। আর সেই আসনে অননুমোদিত প্রবেশ কীভাবে সম্ভব হল, সেটাই এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন।
আরও পড়ুন –আন্সেলত্তির আমলে স্বাধীন, রিয়ালের ছবি ব্রাজিলে ফেরাতে মরিয়া ভিনিসিয়াস

